
ইরানে মার্কিন সামরিক হামলা এবং সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারী ও আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৬ মে) এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৮ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামেও উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলা এবং হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলার কারণে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই তেলের দামের ব্যবধানেও পড়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে জাহাজ চলাচল কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকে ইরান বাইরের জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। ফলে বহু আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকার প্রণালির বিভিন্ন অংশে আটকে রয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের আলোচকদের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ফলে বাজারে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি এই চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচল শুরু করতে পারবে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে এবং তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা কমতে পারে।
মন্তব্য করুন