
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার দাবি করার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৩.৫১ ডলার বা ৩.৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৭.৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সঙ্গে আগস্ট ডেলিভারির বেশি সক্রিয় চুক্তির মূল্য ৩.৩৫ ডলার বা ৩.৬৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেল প্রতি ৯৫.৬ ডলারে।
অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচার্সের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময় মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচার্সের দাম ৩.৩১ ডলার বা ৩.৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯১.৯৯ ডলারে উন্নীত হয়।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আগ্রাসন চালানো হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সেনা ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ ইরানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড।
এর আগের সেশনে অবশ্য ভিন্ন চিত্র ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধাবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তির খবরের পর উভয় বেঞ্চমার্কেই তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। কিন্তু নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় বাজার আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এএনজেড কমোডিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট ড্যানিয়েল হাইনস জানিয়েছেন, বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ এমনিতেই সীমিত অবস্থায় রয়েছে। এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুদ কমে যাওয়ার তথ্যও বাজারে মূল্য বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মার্কিন তেলের মজুদ ২.৮ মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে। এটি টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো মজুদ হ্রাসের ঘটনা।
সাধারণত বুধবার মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) সরকারি মজুদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। তবে ‘মেমোরিয়াল ডে’ ছুটির কারণে এবারের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন হওয়ায় সেখানে অস্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতি, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
মন্তব্য করুন