
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায় এই পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩৮০ দশমিক ৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে এটি ২৬ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
এদিকে জুন মাসে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭৭ দশমিক ১০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলার এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোয় অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ফলে বাজারে চাহিদা কমে গেছে।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২ দশমিক ৩৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৯০ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৬৪ দশমিক ২৬ ডলারে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। স্টোনএক্সের সিনিয়র বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, শান্তিচুক্তি নিয়ে একাধিকবার আশার বার্তা এলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে মার্কিন ডলারের চাহিদা শক্তিশালী থাকছে এবং এতে স্বর্ণের বাজারে চাপ আরও বাড়ছে।
এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের দেওয়া তথ্য প্রত্যাখ্যান করেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালায়, যা বৈশ্বিক বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন