
মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার খবরে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে নতুন প্রভাব পড়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগমাধ্যম হিসেবে মার্কিন ডলারের চাহিদা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দর আরও দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে অপরিশোধিত তেলের দামও।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ থেকে সরে এসে বিকল্প বাজারে ঝুঁকছেন। ফলে চলতি সপ্তাহজুড়ে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা একটি সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে।
এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। যদিও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল কূটনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
এই খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। ফলে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে মার্কিন ডলারের প্রতি আগ্রহ কমেছে এবং তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) এশিয়ার লেনদেনে ইউরোর দর দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৬৫৩ মার্কিন ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেশি। অন্যদিকে ব্রিটিশ পাউন্ড প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ১ দশমিক ৩৪৪৫ ডলারে অবস্থান করছে।
অস্ট্রেলীয় ডলারের দর ছিল শূন্য দশমিক ৭১৬৪ মার্কিন ডলার। একই সময়ে নিউজিল্যান্ড ডলার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে শূন্য দশমিক ৫৯৪৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।
বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান পরিমাপকারী ডলার ইনডেক্স শুক্রবার ৯৮ দশমিক ৯৯৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। আগের দিন সূচকটি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছিল। ফলে চলতি সপ্তাহে ডলার ইনডেক্স প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমার পথে রয়েছে।
ইউবিএস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বৈশ্বিক বাজার কৌশল বিভাগের প্রধান মাসিমিলিয়ানো কাস্তেল্লি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট যদি ধীরে ধীরে প্রশমিত হয়, তাহলে মার্কিন ডলারের দুর্বলতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
তার মতে, সংঘাতের সময় নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদার কারণে ডলারের পতন সাময়িকভাবে থেমে ছিল। তবে এখন অনেক বিনিয়োগকারী ডলারভিত্তিক সম্পদ থেকে সরে এসে বিনিয়োগ বহুমুখীকরণের দিকে ঝুঁকছেন। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড বাজারেও পড়ছে।
ডলারের দুর্বলতার সুযোগে জাপানি ইয়েন আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৫৯ দশমিক ২৭ ইয়েন লেনদেন হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ১৬০ ইয়েনের গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সীমা থেকে বাজার এখন কিছুটা দূরে অবস্থান করছে। অতীতে এই সীমা অতিক্রম করলে জাপানের কর্তৃপক্ষ বাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার আপাতত অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
মন্তব্য করুন