
আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও স্বর্ণের দামে পতন দেখা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা জোরদার হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৮ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২১ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগে শুক্রবার প্রায় ৩ শতাংশ দরপতনের ফলে স্বর্ণের দাম ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি প্রকাশিত শক্তিশালী মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে বা প্রয়োজনে আরও বাড়াতে পারে। উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়, ফলে বাজারে বিক্রির চাপ বৃদ্ধি পায়।
একই দিনে আগস্ট ডেলিভারির স্বর্ণ ফিউচারের দামও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারেরও বেশি বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে সুদের হার সমন্বয়ের সুযোগ এখনও রয়েছে। ফলে বাজারে সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
এদিকে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, মে মাসে টানা ১৯তম মাসের মতো দেশটির স্বর্ণের রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও চীনের ধারাবাহিক স্বর্ণ ক্রয় আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
তবে এশিয়ার অন্যান্য বড় বাজারে পরিস্থিতি ভিন্ন। ভারতে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমেছে এবং চীনের বাজারেও স্বর্ণের প্রিমিয়াম হ্রাস পেয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে স্বর্ণবাজারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
মন্তব্য করুন