
ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩ সেন্ট বা ০.১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৪.৩৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১১ সেন্ট বা ০.১২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১.৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি। এই অনিশ্চয়তাই আন্তর্জাতিক তেল বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ অঞ্চলটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে সামান্য উত্তেজনাও তেলের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
সোমবার (৮ জুন) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানও তাদের সামরিক অভিযান স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ইসরাইল যদি তাদের ভূখণ্ড বা লেবাননে নতুন কোনো হামলা চালায়, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।
দুই মাসের বিরতির পর রোববার দিবাগত রাতে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। সোমবার সকাল পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা অব্যাহত ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একাধিক বার্তা দিয়ে উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে এবং দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
ইরান-ইসরাইল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতির ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে সতর্কতা এবং অস্থিরতা এখনো কাটেনি।
মন্তব্য করুন