
বিভিন্ন মিডিয়ায় যখন খবর মিলছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন দিল্লি সফরে থাকা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউজে ওই বৈঠকে দুদেশের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে ‘ঐকমত্য’ হওয়ার কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এক এক্স বার্তায় বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলের আতিথেয়তা করতে পেরে তিনি আনন্দিত। ঠিক সেই মুহূর্তে আর একটি খবর অনেকের দৃষ্টিতে এসেছে। খবরটি সীমান্তে হত্যাকান্ডের একটি দুঃখজনক খবর। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারতীয় সীমানার ভেতরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিজিবি। নিহত আলী হোসেন (৩৮) পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি গ্রামের পানিয়ারটারী এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে আলী হোসেনসহ সাত-আটজনের একটি দল গরু পারাপারের জন্য ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ২০০ গজ প্রবেশ করেন। এ সময় পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার টহলরত ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের সাতমাথা ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আলী হোসেনের মৃত্যু হয়। পরে বিএসএফ তার মরদেহ নিয়ে ভারতের মাথাভাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকাল ১১টায় সীমান্তের ৮৭৫ নম্বর পিলারের কাছে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম। অন্যদিকে ভারতের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএসএফের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট মিস্টার সৌরভ। নিহতের বড় ভাই আব্দুল মালেক বলেন, গভীর রাতে বিএসএফের গুলিতে তার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর তারা শুনেছেন। তবে কেন বা কীভাবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি তিনি। যে কারণেই হোক, ওই যুবক অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়েছিলেন। কিন্তু তার শাস্তি মৃত্যু হতে পারে না। তাকে ধরে প্রচলিত আইনে বিচার করা যেতো। আমরা সীমান্তে এ ধরণের হত্যাকান্ড চিরতরে বন্ধ দেখতে চাই।
মন্তব্য করুন