
টিকা প্রয়োগে হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসলেও হাম ও উপসর্গে মৃত্যু কোনোভাবেই কমছে না। সরকারি হিসেবের তথ্য অনুযায়ীই এ পর্যন্ত সাড়ে চার শতাধিক মৃত্যুর খবর জানা গেছে। এরই মাঝে বুধবার খবর মিলেছে, দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে একজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল; বাকি ৭ জনের মধ্যে ছিল হামের উপসর্গ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮ থেকে বুধবার একই সময় পর্যন্ত সময়ে ১২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে ১ হাজার ৪৮৯ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন; যাদের মধ্যে ১ হাজার ১৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশে ৭ হাজার ১৫০ জনের হাম শনাক্ত হলো। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৫৬ জন। একই সময়ে দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬৯ জনের। এছাড়া হামের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছেন ৩৬৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রোগী বরিশাল বিভাগের। হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ জন রোগী মারা গেছে সিলেট বিভাগে। একই সময়ে সেখানে হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৫ জনের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ জন রোগী মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, শনাক্ত হয়েছে ৪৪ জন। সারাদেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ৪৪ জন। হামের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে আরো ১৪৩ জন। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৮৭৬ জন। নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৮৮৫ জন। হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী মৃত্যু ঘটেছে ৮০ জন রাজশাহী বিভাগে। গত একদিনে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ৫১৩ জন ভর্তি হয়েছেন ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। সবচেয়ে কম ১২ জন ভর্তি হয়েছেন রংপুরে। হামে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট বিভাগের আরও আন্তরিকতা এবং উদ্যোগ জরুরি বলে আমরা মনে করি।
মন্তব্য করুন