
পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু হয়েছে অনেক বছর আগে, তবে তাঁর সংগীত ও জনপ্রিয়তা আজও বিশ্বজুড়ে অটুট। বাংলাদেশেও রয়েছে তাঁর অসংখ্য ভক্ত। সেই ভক্তদের জন্য এবার আসছে বিশেষ সুখবর—মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীভিত্তিক সিনেমা ‘মাইকেল’ মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশে।
আগামী ২৪ এপ্রিল সিনেমাটি আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাবে এবং একই দিনে বাংলাদেশে স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।
স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, মাইকেল জ্যাকসনের প্রতি বাংলাদেশের দর্শকদের আগ্রহ অনেক বেশি। বিশেষ করে আশি-নব্বই দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁর জনপ্রিয়তা একইভাবে বজায় রয়েছে। ইতোমধ্যেই অনেক দর্শক অগ্রিম টিকিটের খোঁজ নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টনি ফুকো। এতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর ভাইয়ের ছেলে জাফার জ্যাকসন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাইলস টেলার, কোলম্যান ডোমিঙ্গো, ক্যাট গ্রাহাম, নিয়া লং, লরা হ্যারিয়ার, কেনড্রিক স্যাম্পসন এবং জুলিয়ানো ক্রু ভ্যালদি।
সিনেমাটিতে তুলে ধরা হবে সংগীতের বাইরেও মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের গল্প, যেভাবে জ্যাকসন ফাইভ ব্যান্ডের তরুণ প্রতিভা থেকে তিনি হয়ে ওঠেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিনোদনশিল্পী। মঞ্চের বাইরের জীবন ও একক সংগীতজীবনের সোনালী মুহূর্তগুলো দর্শক দেখবেন একেবারে কাছ থেকে, যেখানে শুরু হয়েছিল তার পথচলা। মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের চরিত্রও তুলে ধরা হয়েছে এখানে।
মাইকেলের বাবা জো জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোলম্যান ডমিংগো। মা ক্যাথরিন জ্যাকসনের চরিত্রে দেখা যাবে নিয়া লংকে। বোন লাটোয়া জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসিকা সুলা। এ ছাড়া সংগীত জগতের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন মোটাউন রেকর্ডসের প্রতিষ্ঠাতা বেরি গর্ডি, সংগীত নির্বাহী সুজান দে পাসে এবং ডায়ানা রসের চরিত্রও।
চরিত্রগুলোর মাধ্যমে মাইকেলের ক্যারিয়ারের পেছনের মানুষদের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ছোট বয়সে জ্যাকসন ফাইভ ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে মাইকেলের যাত্রা শুরু হয়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে একক শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে বড় তারকা। এই বায়োপিকে তুলে ধরা হবে মাইকেল জ্যাকসনের অজানা অনেক গল্প। থাকবে তাঁর বিখ্যাত কিছু পারফরম্যান্সও।
গত বছরের নভেম্বের মাইকেলের বায়োপিক ‘মাইকেল’-এর টিজার মুক্তির পর ভিউয়ের রেকর্ড গড়ে। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১১৬.২ মিলিয়ন ভিউ। এর আগে অন্য কোনো মিউজিক্যাল বায়োপিক সিনেমার টিজার ২৪ ঘণ্টায় এত ভিউ হয়নি। ঝড় উঠেছে ট্রেলার মুক্তির পরও। গেল ফেব্রুয়ারিতে মুক্তির একদিনের মধ্যেই ট্রেলারটি ৫ মিলিয়নের বেশি ভিউ ছাড়িয়ে গেছে।
২০০৯ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে মৃত্যুর পরও তার জনপ্রিয়তা কমেনি পপ সম্রাটের। স্পটিফাইয়ে তার মাসিক শ্রোতা প্রায় ৬৫ মিলিয়ন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যেমন কৌতুহল ছিল তাকে নিয়ে, মৃত্যুর পরও কৌতুহলের শেষ নেই। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন বায়োপিকটি সে কৌতূহল মেটাতে সহায়তা করবে।
মন্তব্য করুন