
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা দম্পতি অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন-কে ঘিরে একাধিকবার বিচ্ছেদের গুঞ্জন শোনা গেলেও, বাস্তবে তাঁদের সম্পর্ক এখনো দৃঢ় ও সুখের—এমনটাই জানালেন অভিষেক নিজেই।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দাম্পত্যজীবনে তাঁদের সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছে ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান এবং গভীর বোঝাপড়ার ওপর। তাঁর ভাষায়, সব কিছু যেন আগেই নির্ধারিত ছিল। ঐশ্বরিয়া শুধু আমার সন্তানের মা নন, তিনি আমার জীবনের বড় একটি অংশ।
মেয়ে আরাধ্যা বচ্চন-কে যেভাবে বড় করে তুলছেন ঐশ্বরিয়া, তা দেখে অভিষেক আরও বেশি মুগ্ধ। তিনি বলেন, এখন মনে হয়, ঐশ্বরিয়াই আমার সেই মনের মানুষ।
সম্প্রতি এই তারকা দম্পতি তাঁদের বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছেন। বড় আয়োজন না থাকলেও, সামাজিক মাধ্যমে স্বামী ও মেয়ের সঙ্গে ছবি শেয়ার করেন ঐশ্বরিয়া। আগামী বছর তাঁদের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন অভিষেক।
অভিষেক ও ঐশ্বরিয়ার প্রেমের শুরু হয়েছিল বন্ধুত্ব দিয়ে। ২০০০ সালে ‘ঢাই অক্ষর প্রেম কে’ ও ‘কুচ না কাহো’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেন দু’জন। পরে ‘বান্টি অর বাবলি’-এর জনপ্রিয় গান ‘কাজরা রে’-এর শুটিংয়ের সময় তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে শোনা যায়। এরপর ‘গুরু’, ‘উমরাও জান’ ও ‘ধুম ২’-এ কাজ করতে করতেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
অভিষেক জানান, রাজ কানওয়ারের ‘ঢাই অক্ষর প্রেম কে’ (২০০০) ছবির সেটে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হয়েছিল। প্রেম হয়েছিল অনেক পরে। সেই সময় তাঁদের সম্পর্ক ছিল নিছক বন্ধুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কী হতে চলেছে, তার কোনো আভাসই তখন ছিল না। আমাদের খুব ভালো বনিবনা হয়েছিল।
তাঁরা ‘কুচ না কহো’ ছবির জন্য পুনরায় জুটি বাঁধেন, কিন্তু তখনও তাঁদের সম্পর্ক ছিল কঠোরভাবে পেশাগত।
২০০৭ সালে মুম্বাইতে তারকাখচিত এক বিয়ের পর ‘গুরু’ ছবিটি মুক্তি পায়। সে ছবি মুক্তির কয়েক মাস পরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন অভিষেক-ঐশ্বরিয়া।
অভিনেতা বললেন, আমাদের ‘গুরু’ মুক্তির কয়েক মাস পরেই আমরা বিয়ে করি। মণি রত্নম (যিনি ‘গুরু’ পরিচালনা করেছেন) আমাদের দুজনের কাছেই বিশেষ। আমরা তাঁকে একজন প্রিয় বন্ধু এবং গডফাদার হিসেবে গণ্য করি।
দাম্পত্য জীবনের সফলতার বিষয়ে অভিষেকের সহজ কিন্তু কার্যকর পরামর্শ— প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আপনার স্ত্রীকে অন্তত তিনবার ‘সরি’ বলুন।
মন্তব্য করুন