
দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-ড্রামা তারকা কিম সু-হিউনের বিরুদ্ধে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে এক ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি কিম সে-উই, যিনি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘হোভার ল্যাব’-এর প্রধান এবং সাবেক টেলিভিশন সাংবাদিক।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম সে-উই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এই মিথ্যা প্রচারণার ফলে অভিনেতা কিম সু-হিয়ানের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে কিম সু-হিয়ান তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।
তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ইউটিউবারটি মেসেঞ্জার অ্যাপ ‘কাকাওটক’-এর চ্যাট স্ক্রিনশট এডিট করে বিকৃত তথ্য তৈরি করেছিলেন। এছাড়া এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ভুয়া অডিও ক্লিপও তৈরি করা হয় বলে প্রমাণ মিলেছে।
ভুয়া দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—কিম সু-হিউন এবং প্রয়াত অভিনেত্রী কিম সায়ে-রন যখন নাবালিকা ছিলেন, তখন তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। পাশাপাশি আরও দাবি করা হয় যে, কিম সু-হিয়ানের চাপের কারণে কিম সে-রনের আত্মহত্যা হয়েছে—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে নিশ্চিত করেছে তদন্ত সংস্থা।
তদন্তকারীদের মতে, কিম সে-উই সচেতনভাবেই এই ভুয়া তথ্য ছড়ান মূলত আর্থিক লাভ এবং ইউটিউব চ্যানেলের ভিউ ও সাবস্ক্রাইবার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে।
এই গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে কোরিয়ান বিনোদন জগতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এতে কিম সু-হিউনের সোশ্যাল মিডিয়ায় ১০ লাখেরও বেশি ফলোয়ার কমে যায়।
তার একাধিক বিজ্ঞাপন চুক্তি ও টেলিভিশন প্রজেক্ট বাতিল হয়। এমনকি ডিজনি প্লাসে তার অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিরিজ ‘নক-অফ’-এর মুক্তিও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
মন্তব্য করুন