মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্লাস্টিকের দাপটে বিলুপ্তির পথে বাঁশ শিল্প

জাহাঙ্গীর হোসেন, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ০৭:৪০ এএম
কালীগঞ্জ ও বারোবাজার অঞ্চলে শত বছরের পুরোনো বাঁশশিল্প এখন বিলুপ্তির পথে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের শত শত পরিবারের একসময় জীবিকা অর্জনের একমাত্র উৎস ছিল বাঁশশিল্প। কিন্তু প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাঁশের চাষাবাদ কমে যাওয়া এবং প্লাস্টিক পণ্যসামগ্রীর ভিড়ে বাজারে বাঁশ সামগ্রীর চাহিদা কমায় এখন বিলুপ্তির পথে এ শিল্প।

বংশপরম্পরায় চলে আসা এ কাজ ছেড়ে অনেকেই বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন ভিন্ন কোনো পেশা। এ পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে ঐতিহ্যবাহী ও পরিবেশবান্ধব এ কুটিরশিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে করছেন এর সঙ্গে জড়িতরা।

বারোবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, শত বছর অগে থেকেই বারোবাজার, রাখালগাছি,মালিয়াট ইউনিয়নের মহিষাহাটী, পিরোজপু্র, বেথুলী , সুবিথপুর গ্রামের বাঁশশিল্পীরা তাদের সুনিপুণ হাতের কারুকাজে তৈরি করতেন শৌখিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় হরেক সামগ্রী।

এসবের মধ্যে ছিল চাটাই, হাতপাখা, খালই, ঝুঁড়ি, চালনা, কুলা, ডালা, মোড়াসহ নানা বাহারি পণ্য। পরিবারের ছেলে, বুড়ো, নারী ও শিশু সবাই মিলে পারিবারিক আবহে এ কাজ করা সম্ভব হওয়ায় সবাই ছিল কর্মজীবী, তাই তাদের জীবনও চলত বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে। এ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে বাঁশের চাষও হতে থাকে বাড়ি বাড়ি। মহিষাহাটী গ্রামের সরোজিত দাস বলেন, এসব এলাকার বাঁশ শিল্পের রমরমা অবস্থা এখন আর নেই।

জনসংখ্যা বাড়ার কারণে নতুন আবাসন তৈরিতে ভূমির ব্যবহার বাড়তে থাকায় বাঁশ চাষের প্রয়োজনীয় ভূমি কমে যায়। অন্যদিকে বাজারে বাঁশের বিকল্প হিসেবে নানা ধরনের প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতা এবং তুলনামূলক কম দামে তা বিক্রি হওয়ায় ধীরে ধীরে এখানকার কুটিরশিল্পে ধস নামে। এ শিল্পে জড়িতরা দিন-রাত পরিশ্রম করেও সংসার চালানোর মতো টাকা রোজগার করতে না পারায় বেছে নিচ্ছেন ভিন্ন কোনো পেশা। আর যারা নিরুপায় হয়ে এখনো এ পেশায় জড়িয়ে আছেন, তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

মালিয়াট ইউনিয়নের বেথুলী গ্রামের ইউ পি তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় বিলুপ্তির পথে এ শিল্প তবে পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্ত ও স্বল্প সুদে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ঋণদান কর্মসূচি চালু করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

ঝিনাইদহ জেলা বিসিকের উপ ব্যবস্থাপক সেলিনা রহমান জানান, বাঁশ শিল্প বিলুপ্তির পথে এটা দুঃখজনক। তবে সরকার বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা করছে। আমাদের জেলায় এখনো শুরু হয় নাই তবে শীঘ্রই হবে বলে আশা করছি।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের প্রতিটি কৃষক পরিবারের অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী হলোবাঁশের তৈরি এসব সামগ্রী। শস্য সংরক্ষণসহ প্রতিদিনের ব্যবহার্য এসবের বিকল্প কখনোই প্লাস্টিক সামগ্রী হতে পারে না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এস আলমের প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

X