
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ভেতর ধস্তাধস্তির ঘটনায় আহত হয়েছেন ব্রায়ান ম্যাকগিনিস নামের এক সাবেক মেরিন সদস্য। গত বুধবার মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র পরিষেবা উপকমিটির এক শুনানিতে আকস্মিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে গেলে ক্যাপিটল পুলিশের সঙ্গে তাঁর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শুনানি চলাকালে ব্রায়ান উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ‘এই যুদ্ধের মূল কারণ ইসরায়েল। ইসরায়েলের হয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ করতে চায় না।’ তাঁর এই আকস্মিক প্রতিবাদে শুনানির কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বিঘ্নিত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাপিটল পুলিশ তাঁকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে উপস্থিত রিপাবলিকান সিনেটর টিমোথি প্যাট্রিক শিহির সঙ্গেও তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। ব্রায়ানের অভিযোগ, একপর্যায়ে দরজার সঙ্গে চাপে তাঁর হাত ভেঙে যায়।
রয়টার্সের যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সামরিক পোশাক পরিহিত ব্রায়ানকে কক্ষের দরজা দিয়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন সিনেটর শিহি ও ক্যাপিটল পুলিশের সদস্যরা। এ সময় একটি খোলা দরজার কবজায় তাঁর হাত আটকে যেতে দেখা যায়।
আহত হওয়ার পরও ব্রায়ান ম্যাকগিনিস পিছু হটেননি। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, নর্থ ক্যারোলিনা থেকে গ্রিন পার্টির প্রার্থী হিসেবে মার্কিন সিনেট নির্বাচনে তাঁর প্রচারণা চালিয়ে যাবেন।
ধস্তাধস্তির সময় ম্যাকগিনিস বারবার চিৎকার করে বলছিলেন, ‘ইসরায়েলের হয়ে কেউ লড়তে চান না।’ প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তখন দরজার কবজায় তাঁর হাত আটকে যায় এবং হাড় ভাঙার শব্দও শোনা যায়।
৪৪ বছর বয়সী ম্যাকগিনিসের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা, গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া এবং অবৈধ বিক্ষোভ চলাকালে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাকগিনিস বলেন, নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে হাত ভাঙলেও তাঁর আন্দোলন থেমে যাবে না। এই ঘটনা তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, মন্টানার প্রতিনিধি সিনেটর টিমোথি প্যাট্রিক শিহি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি হস্তক্ষেপ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ক্যাপিটল পুলিশ সশস্ত্র বাহিনী–বিষয়ক কমিটির শুনানি থেকে এক বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল এবং তিনি পুলিশকে সহায়তা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওই ব্যক্তি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন এবং ভবিষ্যতে আর কোনো সহিংস ঘটনার সৃষ্টি হবে না।
মন্তব্য করুন