
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ শনিবার (৪ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনে পৌঁছেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাও ভেঙে পড়ার পথে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে অক্ষত রয়েছে। তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের প্রায় ৫০ শতাংশ এখনো সক্রিয়।
এছাড়া দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে হাজার হাজার একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন মজুত রয়েছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই সংঘাতের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের পরিকল্পিত চীন সফর পিছিয়ে গেছে। পূর্বনির্ধারিত সময় পরিবর্তন করে সফরটি মে মাসের মাঝামাঝিতে নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প এখন ইরানকে বারবার চুক্তি করার চাপ দিচ্ছেন। শর্ত মোতাবেক চুক্তি না করলে জোরালো হামলা অব্যাহত থাকবে বলে হুমকি দিয়েই যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প হয়ত আশা করছেন, একটা চুক্তি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীকে যুদ্ধ থেকে সরে আসার পথ তৈরি করে দেবে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে গিয়ে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসবে এবং শেয়ারবাজার চাঙা হবে।
তবে ট্রাম্পের আশা সহজেই পূরণ হচ্ছে না। যুদ্ধ খুব কম ক্ষেত্রেই পরিপাটি বা নিখুঁতভাবে শেষ হয়। অন্যদিকে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা প্রায়ই জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে।
ট্রাম্প একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থলসেনা পাঠাচ্ছেন, আবার প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাঠাতে চাইছেন তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে। তিনি বলেন, আলোচনা চলাকালীন ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হবে না।
দ্য আটলান্টিকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের হাতে বর্তমানে চারটি পথ রয়েছে। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই তার মূল লক্ষ্য, অর্থাৎ তেহরানের শাসক গোষ্ঠীকে উৎখাত করার ধারেকাছেও নেই।
দ্য আটলান্টিক লিখেছে, ট্রাম্পের হাতে থাকা সব বিকল্পই বিপদে ভরা।
আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) ইরানের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছি ঠিকই। কিন্তু এই বার্তাও দিচ্ছি যে, আমরাও চাপে আছি এবং আমাদের সেটা ভালো লাগছে না, বলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পিটার ফিবার।
“এতে করে ইরান বুঝে ফেলেছে যে, টিকে থাকাটাই হবে তাদের প্রধান কৌশল এবং এই কৌশলই তাদের জয় এনে দেবে।”
এই অধ্যাপক আরও বলেন, ইরানের বর্তমান হিসাবটা হলো, তারা যত বেশি দিন যুদ্ধে টিকে থাকবে, তত ভালো চুক্তি তারা করতে পারবে। তাদের এই হিসাবটাই আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।
দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের হাতে সবশেষ উপায় হলো, ইরান আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত বা রাষ্ট্র ভেঙে না পড়া পর্যন্ত বোমা হামলা চালিয়ে যাওয়া।
মন্তব্য করুন