
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কোনোভাবেই যুদ্ধের সমাপ্তি নির্দেশ করে না। বরং এটি চলমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি সাময়িক বিরতি মাত্র।
আগামী ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনাকে সামনে রেখে ইরান তাদের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ইরানের আধা-সরকারি সূত্রগুলো এই পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে।
ইরান জানিয়েছে, এই ১০ দফা প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত সংঘাত অব্যাহত থাকতে পারে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি ১০ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে।
১. ভবিষ্যতে আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা ইরানের প্রথম শর্ত—যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে ভবিষ্যতে আর কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হবে না।
২. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরান হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চায়। পাশাপাশি তারা “নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত” এবং একটি নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল প্রস্তাব করেছে, যা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তাদের প্রভাব আরও জোরদার করবে।
৩. পরমাণু সমৃদ্ধকরণের অধিকার ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত করার দাবি জানিয়েছে।
৪-৫. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ইরানের ওপর আরোপিত সব প্রাথমিক ও দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
৬. জাতিসংঘের প্রস্তাব বাতিল ও সম্পদ ফেরত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইরানবিরোধী সব প্রস্তাব বাতিল এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
৭. আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রস্তাব প্রত্যাহার আইএইএ গভর্নর বোর্ডের সব নেতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের শর্তও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৮. যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ইরানের দাবি—সাম্প্রতিক সংঘাতে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৯. মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এই অঞ্চলে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
১০. আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান লেবাননসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে চলমান সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন