
দুই সপ্তাহের জন্য থামছে লড়াই। কিন্তু এতে শান্তি নয়, বরং নতুন প্রশ্নের জন্ম হয়েছে ইরানের রাজধানী তেহরানে। রাস্তায় সাধারণ মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন—‘কেন হঠাৎ এই যুদ্ধবিরতি?’
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে আল্টিমেটামের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন। অথচ এর আগে তিনি সতর্ক করেছিলেন—চুক্তি না হলে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হতে পারে ইরান।
এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে শুধু আন্তর্জাতিক মহলই নয়, হতবাক তেহরানের সাধারণ মানুষও।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই তেহরানের বিভিন্ন সড়কে নেমে আসেন শত শত মানুষ। গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে, স্লোগান দিতে দিতে তারা জানান নিজেদের ক্ষোভ ও হতাশা।
এক নারী সরাসরি বলেন, “আমরা দুবার আলোচনায় বসেছি, আর তারা হামলা চালিয়েছে। এই যুদ্ধবিরতিও হয়তো নিজেদের শক্তি ফিরে পাওয়ার কৌশল।”
আরেক ইরানি নারীর কণ্ঠে তিক্ততা আরো স্পষ্ট: ‘আমেরিকার স্বভাব কি বদলায়? বুঝতে পারছি না, কেন তারা হামলা বন্ধে রাজি হলো। সব সময়ের মতোই ইসরায়েলের জন্য সময় কিনতে চাইছে তারা...’
এমন সময় পাশের আরেক মহিলা চিৎকার করে ওঠেন–‘আমাদের নেতা শহীদ হয়েছেন।’
‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়ার খবরেও হতাশ ইরানিরা।
তেহরানের এনঘেলাব চত্বরে জড়ো হয়েছেন শত শত মানুষ। পতাকা হাতে সড়কে ভিড়। এক গাড়ির মহিলা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন: “আমরা কেন যুদ্ধবিরতি করব? এখানে লেখা ছিল, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।’ এখন সেটা আবার খুলে গেছে।”
আরেক নারীর দাবি, নতুন নেতৃত্ব এখনো যুদ্ধবিরতি মেনে নেননি: “নতুন সুপ্রিম লিডার নিজে যদি এসে বলেন ‘হ্যাঁ’, তবে আমরা মেনে নেব। কিন্তু তিনি বলেননি। ওঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
কার জয়? কার পরাজয়?
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই চুক্তিকে নিজেদের জয় হিসেবে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, ট্রাম্প ইরানের শর্তেই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন।
কিন্তু হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারোলিন লিভিট একেবারে উল্টো কথা বলেছেন: “সত্য হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও আমাদের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলতে বাধ্য করেছে। এবং আলোচনা চলবে।”
সবশেষে তেহরানের গাড়ি চলছে। পতাকা উড়ছে। কিন্তু মুখে কোনো উল্লাস নেই। বরং আছে সন্দেহ, ক্ষোভ আর একটাই প্রশ্ন–‘কেন হঠাৎ যুদ্ধবিরতি?’
সূত্র : রয়টার্স
মন্তব্য করুন