
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা এখন কার্যত ব্যর্থতার পথে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উভয় পক্ষই পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় নিজেদের অবস্থানকে ‘সফল’ বলে দাবি করলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থান এতটাই বিপরীত ছিল যে অল্প সময়ে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব ছিল।
গত বুধবার ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগেই দুই পক্ষ একে অপরকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছে। এই চুক্তির পটভূমি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর ও হুমকিমূলক বক্তব্য, যেখানে ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের মতো মন্তব্যও উঠে আসে।
কিন্তু এখন তাহলে কী হবে? যুদ্ধবিরতি কি বহাল থাকবে?
বিবিসি সংবাদদাতা জো ইনউড বলেন, ইরানের ওপর নতুন করে হামলা শুরু হবে কী-না, তা নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে হামলার সম্ভাবনা যে নিশ্চিতভাবেই বেড়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
হরমুজ প্রণালি, যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ যা ইরান আংশিকভাবে কিন্তু কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি আপাতত আলোচনার টেবিলের বাইরে রয়ে গেছে। কিন্তু, পারস্য উপসাগরে কয়েকদিন আগে মোতায়েন করা দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অন্য কোনো পথের কথা ভাবছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না- এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হওয়াটাই ছিল আলোচনা সফল হওয়ার পথে প্রধান বাধা।
ইরান সবসময়ই দাবি করে এসেছে যে তারা মারণাস্ত্র উৎপাদন করতে চায় না, কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা হওয়ায় তাদের দেশে পারমাণবিক অস্ত্রের সমর্থকদের এখন পারমাণবিক শক্তি অর্জনে আরও উৎসাহিত করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এ সরাসরি আলোচনা ছিল ঐতিহাসিক, কিন্তু এটি হয়তো কূটনীতির একটি ব্যর্থতা হিসেবেই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন