
অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হতে যাচ্ছে। তিন দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুজান কয়েল দেশটির প্রথম নারী সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
আগামী জুলাই থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ান আর্মির নেতৃত্ব দেবেন। এই নিয়োগ ঘোষণা করে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস তাকে এই পদের জন্য “অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সুজান কয়েলের সামরিক জীবনের সূচনা হয় ১৯৮৭ সালে, যখন তিনি আর্মি রিজার্ভে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্স অ্যাকাডেমি থেকে অফিসার হিসেবে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
তার কর্মজীবনে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে জয়েন্ট টাস্কফোর্স ৬৩৩ এবং আফগানিস্তানে টাস্ক গ্রুপের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া পূর্ব তিমুর ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সুজান কয়েল সাইবার, মহাকাশ কমান্ড এবং তথ্যযুদ্ধের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আধুনিক যুদ্ধের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তার এই অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস আর্মি ওয়ার কলেজ থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, যা তার কৌশলগত নেতৃত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন সন্তানের জননী এবং তার স্বামীও সামরিক বাহিনীতে কর্মরত।
এই নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বলেন, আপনি যা দেখতে পান না, তা আপনি হতে পারেন না, সুজানের এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সুজান বলেন, তিনি যখন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন, তখন মাত্র ১০ শতাংশ সদস্য ছিলেন নারী এবং সর্বোচ্চ পদ ছিল কর্নেল। বর্তমানে সেই চিত্র বদলেছে। এখন চারজন নারী তিন-তারকা জেনারেল রয়েছেন এবং নারীদের অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
মন্তব্য করুন