
সমুদ্রে আটকে থাকা ইরানি তেল বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে স্বল্পমেয়াদী অনুমতি দিয়েছিল, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের আগে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরান একাধিক জাহাজে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং বিপুল পরিমাণ পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য মজুত করে রেখেছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। ফলে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। এর ফলে ইরান তাদের সমুদ্রে মজুত তেলের বড় অংশ বিক্রি করতে সক্ষম হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সমুদ্রে থাকা জাহাজে মজুত তেলের ওপর দেওয়া এই ছাড় নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে এবং তা আর বাড়ানো হবে না।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইকোনমিক ফিউরি’ নামে নতুন একটি কৌশল গ্রহণ করেছে। এই নীতির আওতায় শুধু তেল নয়, ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করলেও সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।
গত শনিবার ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরেই হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ শুরু করে মার্কিন সেনারা। কোনো দেশের জাহাজই ঢুকতে বা বেরতে পারছে না। এই আবহেই আগামী দুদিনের মধ্যে ফের আলোচনায় বসতে চলেছে দুই দেশ। তার আগে ছাড় তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইরানের উপরে চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান ২০ বছরের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ রাখুক। কিন্তু ইরান ৫ বছরের বেশি রাজি না হওয়ায় প্রথম দফার বৈঠক সফলতার মুখ দেখেনি। তবে গত কয়েক দিনের আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফা শান্তি বৈঠকের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে করে তুলে নেওয়া হতে পারে অবরোধ। খুলে যেতে পারে হরমুজ প্রণালিও।
মন্তব্য করুন