
মিয়ানমারের কারাবন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি-এর সাজার মেয়াদ কমিয়েছে দেশটির সামরিক সমর্থিত সরকার। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে এ তথ্য জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী এই নোবেলজয়ী নেত্রী উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনী জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগে মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তবে তার সমর্থকদের দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সুচির আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, তার সাজার মোট মেয়াদের ছয় ভাগের এক ভাগ কমানো হয়েছে। যদিও তিনি বাকি সাজা গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এদিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং চার হাজার ৩৩৫ জন বন্দীর জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। গত ছয় মাসে এটি এ ধরনের তৃতীয় পদক্ষেপ।
সাধারণত প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে স্বাধীনতা দিবস এবং এপ্রিলে নববর্ষ উপলক্ষে বন্দীদের জন্য এ ধরনের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়ে থাকে মিয়ানমারে।
এদিকে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সেনা-সমর্থিত সরকারের এক মুখপাত্রের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এর আগে, ২০২১ সালে মিন অং হ্লাইং এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিরতায় পড়ে দেশটি।
সেই সময় থেকে মিন অং হ্লাইং জান্তা সরকারকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। গত ৩ এপ্রিল দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তবে সেই ওই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
মন্তব্য করুন