
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের ভূগর্ভে চাপা পড়ে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম—যাকে তিনি “নিউক্লিয়ার ডাস্ট” হিসেবে উল্লেখ করেছেন—যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরে প্রস্তুত। তবে তেহরান এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
গত বছরের মার্কিন হামলার পর ইরানের পারমাণবিক উপাদানগুলো ভূগর্ভে চাপা পড়ে যায় বলে জানা যায়। এসব উপাদানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য। ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে, তবে আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পারমাণবিক ইস্যু। ইউরেনিয়াম হস্তান্তর একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ইরানের পুনরায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা বজায় থাকে, তাহলে এই সমঝোতার স্থায়িত্ব অনিশ্চিত থাকবে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে ইরানে আর কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চলবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে মিলে ভূগর্ভে চাপা পড়া পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করছে।
গত বছরের জুনে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার আগে ইরানের কাছে ছিল ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম এবং প্রায় ২০০ কেজি ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ফিসাইল উপাদান। এই উপাদানগুলো প্রযুক্তিগতভাবে দ্রুত ৯০ শতাংশ বা অস্ত্র-গ্রেড ইউরেনিয়ামে রূপান্তরযোগ্য।
ইরান দাবি করে আসছে, তাদের এই কর্মসূচি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য। তবে তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০৪১ সালের মধ্যে ২০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বর্তমানে তাদের একমাত্র সচল কেন্দ্র বুশেহর মাত্র ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা দেশের মোট উৎপাদনের মাত্র ১ শতাংশ।
জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির জ্বালানি কৌশলবিদ উমুদ শোকরি জানান, ইরানের বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের মজুত থাকায় পারমাণবিক শক্তির চেয়ে গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেক বেশি সাশ্রয়ী।
কোথায় চাপা পড়ে আছে এই ‘পারমাণবিক ধূলিকণা’: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক উপাদানগুলো মূলত ইস্পাহানের একটি ভূগর্ভস্থ টানেল এবং নাতানজ কমপ্লেক্সের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, গত বছরের হামলায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে এখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সেন্ট্রিফিউজ এবং নতুন ভূগর্ভস্থ কেন্দ্র স্থাপনের সক্ষমতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচিই এখন প্রধান বাধা। ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র চায় না। তাই ভবিষ্যতে অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি কোনো বড় সাফল্য নয়। তেহরান যদি তাদের বিদ্যমান ইউরেনিয়াম মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়, তবে তা হবে একটি বিশাল ছাড়। তবে দেশটির পুনরায় সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা থাকলে এই সমঝোতার স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
মন্তব্য করুন