
ভারতের আইনসভাগুলোর আসনসংখ্যা বাড়ানো এবং নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে আনা সরকারি বিলটি সংসদে পাস হয়নি। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় বিলটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য একটি বিরল রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) লোকসভায় অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৯৮ জন এবং বিপক্ষে ২৩০ জন সদস্য ভোট দেন। তবে সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় বিলটি পাস হয়নি।
বিরোধী দলগুলো জানায়, তারা নারী আইনপ্রণেতাদের জন্য কোটা ব্যবস্থার পক্ষে থাকলেও বিলটির সঙ্গে নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, সংশোধনী বিল বাতিল হওয়া প্রমাণ করে যে নারীদের নাম ব্যবহার করে অসাংবিধানিক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল।
মোদি সরকার বিরোধীদের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে। সরকার জানিয়েছে, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের দাবিতে তারা ভবিষ্যতেও প্রচারণা চালিয়ে যাবে। ভোটাভুটির আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, এই বিলের বিরোধিতা করায় দেশের নারীরা বিরোধীদের ক্ষমা করবে না।
সরকারের যুক্তি অনুযায়ী, সর্বশেষ ১৯৭১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে আসন নির্ধারণ করা হয়েছিল। জনসংখ্যার পরিবর্তন বিবেচনায় এনে নির্বাচনি সীমানা পুনর্নির্ধারণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিলটি পাস হলে ২০২৯ সালের মধ্যে লোকসভায় আইনপ্রণেতার সংখ্যা প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫০-এ পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল। একইসঙ্গে রাজ্য আইনসভাগুলোতেও আসন বৃদ্ধি পেত।
বর্তমানে ভারতের সংসদে নারীদের জন্য কোনো সংরক্ষিত আসন নেই। লোকসভায় নারী সদস্যের হার মাত্র ১৪ শতাংশ, আর রাজ্যসভায় তা ১৭ শতাংশ। রাজ্য আইনসভাগুলোতে নারী প্রতিনিধিত্ব আরও কম, প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি।
মন্তব্য করুন