
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরান বিশ্বাস করে না এবং যেকোনো মুহূর্তে আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও মিডলইস্ট আই এই তথ্য জানিয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় এই মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাব্য অবসানের আশঙ্কায় ইসরায়েলি বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বর্তমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ইরান-সম্পর্কিত নৌযানগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহাজের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌবাহিনী ও বিশেষ দল পাঠিয়ে জাহাজ আটক বা তল্লাশি করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগে ‘সমঝোতার রূপরেখা’ চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ।
তিনি বলেন, ‘এটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা নতুন করে বৈঠকের তারিখ ঠিক করতে পারছি না।’
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, কিছু বিষয় নিয়ে দুপক্ষ এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। আর এর কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ‘অতিরিক্ত দাবি’ উত্থাপন করেছে।
ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, তেহরান তার শর্তগুলো পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে।
তেহরান এটাও স্পষ্ট করেছে, যে তারা দীর্ঘ এবং অর্থহীন আলোচনা করে সময় নষ্ট করতে চায় না। এদিকে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তেহরান সেগুলো পর্যালোচনা করছে এবং এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম দফার শান্তি আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। যদিও দুপক্ষের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে চেষ্টা করছে পাকিস্তান।
এদিকে, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এ অভিযানে ১২টির বেশি যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে। তাতে সহায়তা দিচ্ছে ১০ হাজারের বেশি কর্মী ও যুদ্ধবিমান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সমুদ্রসীমানায় কড়াকড়ির অংশ হিসেবে ইরান-সংশ্লিষ্ট ২৩টি জাহাজকে ইতিমধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব জাহাজকে হরমুজ প্রণালির দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, তারা সমুদ্রপথে তল্লাশি ও সন্দেহভাজন জাহাজগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
মন্তব্য করুন