
এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অন্তত তিনটি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কারের রুট পরিবর্তন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আন্তর্জাতিক শিপিং ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই তথ্য প্রকাশ করে রয়টার্স।
সূত্র জানায়, ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি অবস্থানে থাকা এসব জাহাজকে তাদের নির্ধারিত গন্তব্য থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়ার দিকে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে ইরানের সমুদ্র বাণিজ্যের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি—যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট—সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত প্রায় দুই মাস অতিক্রম করলেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং সামুদ্রিক পথকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক পঞ্চমাংশ বিঘ্নিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের জন্ম দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন বাহিনী সম্প্রতি ইরানের একটি মালবাহী জাহাজ ও একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। জবাবে ইরান বুধবার জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টাকারী দুটি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এটিই ইরানের প্রথম জাহাজ জব্দের ঘটনা।
রয়টার্সের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অন্তত তিনটি ইরানি ট্যাঙ্কারের পথ ঘুরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ট্যাঙ্কারগুলো হলো, ডিপ সি, সেভিন ও ডোরিনা।
ডিপ সি নামের সুপারট্যাঙ্কারটি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। এক সপ্তাহ আগে মালয়েশিয়া উপকূলে এর অবস্থান শেষবার শনাক্ত করা হয়।
সেভিন ১০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি ছোট ট্যাঙ্কার, যা ৬৫ শতাংশ পূর্ণ ছিল। এক মাস আগে মালয়েশিয়া উপকূলে এটি দেখা যায়।
ডোরিনা নামের ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারটিতে তিন দিন আগে দক্ষিণ ভারত উপকূলে দেখা যায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে, অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টার অপরাধে বর্তমানে ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জাহাজ এটিকে এসকর্ট করে নিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও দেরিয়া নামক আরেকটি জাহাজ মার্কিন বাহিনী আটকে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে তারা মোট ২৯টি জাহাজকে তাদের গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনী মূলত হরমুজ প্রণালি থেকে দূরে খোলা সমুদ্রে ইরানি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যাতে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি এড়িয়ে এই অপারেশন পরিচালনা করা যায়।
মন্তব্য করুন