
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে যে ডিপসিকসহ একাধিক চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ল্যাব থেকে মেধাস্বত্ব চুরির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর একটি কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন মালিকানাধীন উন্নত এআই মডেল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে চীন তাদের নিজস্ব মডেল তৈরি করছে—যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মতে, এইভাবে তৈরি এআই মডেলগুলোতে মূল মডেলের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে না। ফলে এগুলো ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে পারে, যা বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্যবস্থার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
এই সতর্কবার্তায় এআই ডিস্টিলেশনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে একটি বড় ও শক্তিশালী এআই মডেল থেকে জ্ঞান নিয়ে ছোট ও কম খরচের মডেল তৈরি করা হয়। বড় মডেলগুলো তৈরি করতে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। ছোট কোম্পানিগুলো সেই বড় মডেলের দেওয়া উত্তর বা ডেটা ব্যবহার করে নিজেদের ছোট মডেলকে প্রশিক্ষণ দেয়। এতে করে অনেক কম খরচে এবং কম সময়ে বেশ শক্তিশালী একটি এআই তৈরি করা সম্ভব হয়।
গত বছর কম খরচে এআই মডেল তৈরি করে বিশ্বকে চমকে দেওয়া চীনা স্টার্টআপ ডিপসিক গত শুক্রবার হুয়াওয়ে চিপ প্রযুক্তির উপযোগী করে তৈরি তাদের একটি বহুল প্রতীক্ষিত নতুন মডেলের প্রিভিউ উন্মোচন করেছে, যা এই খাতে চীনের ক্রমবর্ধমান স্বনির্ভরতার ইঙ্গিত দেয়।
এ বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ডিপসিক এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পায়নি রয়টার্স।
কূটনৈতিক বার্তাটিতে মুনশট ও মিনিম্যাক্স নামে আরও দুটি চীনা এআই প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছে, তবে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাস একে ভিত্তিহীন অভিযোগ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, বেইজিং মেধা সম্পদ অধিকার রক্ষার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও কনস্যুলার মিশনে পাঠানো শুক্রবারের এই বার্তায় মার্কিন কর্মকর্তাদের তাদের বিদেশি প্রতিপক্ষদের সঙ্গে মার্কিন এআই মডেলের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বেইজিংয়ের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করার জন্য আলাদা একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। এর আগে অপ্রকাশিত এই বার্তাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, মার্কিন এআই মডেলগুলো থেকে চীনের তথ্য চুরির ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওপেনএআই মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে জানিয়েছিল—ডিপসিক চ্যাটজিপিটি নির্মাতাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে যাতে তাদের মডেলগুলো নকল করে নিজেদের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা যায়।
রয়টার্সের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত এই মেমো এবং ফলো-আপ বার্তাটি দুই পরাশক্তির মধ্যকার দীর্ঘদিনের প্রযুক্তি যুদ্ধকে আরও উসকে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন