
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে, এমনকি দেশটি “ধ্বংস” বা “সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন” হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মার্কিন সম্প্রচার মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, ইরানকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে আসতে হবে। অন্যথায় কঠোর পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে তিনি সতর্ক করেন। তার এই বক্তব্যকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম কঠোর রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান সম্প্রতি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রসহ কিছু সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে। যদিও তিনি এর কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অস্ত্র খুব দ্রুতই ধ্বংস করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব আগের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি “বিচক্ষণ ও বাস্তববাদী”, এবং আলোচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প ভিন্ন অবস্থান প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভূখণ্ড থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া জনমতের বিষয় ছাড়া অতটা জরুরি নয়।
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইউরেনিয়াম সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তিনিই প্রথম সামনে এনেছিলেন এবং এ বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান টানাপোড়েন নতুন করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা তৈরি করছে।
ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, ইরান তার এই বার্তাগুলো গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করছে এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের পরিবর্তে একটি আলোচনার পথ বেছে নেবে। অন্যথায় এক ভয়াবহ সংঘাতের জন্য ইরানকে প্রস্তুত থাকতে হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন