
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে নতুন করে ব্যাপক সামরিক অভিযান ও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং কট্টরপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা। এতে সালফিত, হেব্রন, রামাল্লা, বেথলেহেম এবং জেনিনজুড়ে চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, একযোগে এই অভিযান চালানো হয় একাধিক অঞ্চলে।
ইসরায়েলি সেনারা বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে ঢুকে ব্যাপক তল্লাশি চালায় এবং বহু স্থানে ভাঙচুর করে। অনেক বাসিন্দাকে ঘর থেকে বের করে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সালফিতের পশ্চিমাঞ্চলের আজ-জাওয়িয়া শহরে হঠাৎ প্রবেশ করে সেনারা একের পর এক বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং প্রধান সড়ক অবরোধ করে রাখে।
হেব্রনের নিকটবর্তী আধ-ধাহিরিয়া এলাকায় এক কট্টরপন্থী বসতি স্থাপনকারীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি যুবক গুরুতর আহত হন। গুলি তার উরুতে লাগে এবং তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানায় ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
রামাল্লার নিকটবর্তী শুকবা গ্রামে বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আরও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।
এছাড়া বেথলেহেমের নাহালিন এলাকা থেকে কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করে ইসরায়েলি বাহিনী।
এরপর সেনারা ধেইশেহ শরণার্থী শিবিরে প্রবেশ করলে স্থানীয় ফিলিস্তিনি যুবকদের সঙ্গে তাদের তীব্র সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসরায়েলি সৈন্যরা ব্যাপক হারে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে, যার ফলে অনেকেই শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন।
একই রাতে জেনিনের নিকটবর্তী জাবা শহরেও সামরিক যান নিয়ে প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে তারা সাময়িক চেকপোস্ট বসিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালায় এবং চালকদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে।
ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের এই যৌথ হামলাকে নিয়মতান্ত্রিক নিপীড়নের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের চোখ যখন গাজার দিকে, তখন পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের ওপর এই ধরনের হামলা ও গ্রেফতারি অভিযান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
মন্তব্য করুন