
মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর বিশাল খনিজ সম্পদ ও দুর্লভ মৃত্তিকা (রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট) নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া।
রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল গালুজিন রুশ গণমাধ্যম ইজভেস্তিয়া-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর এই আগ্রহ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশল।
ঐতিহাসিকভাবে মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশ—কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান—রাশিয়ার প্রভাব বলয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
তবে বর্তমানে বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে রেয়ার আর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদা দ্রুত বাড়ায় এই অঞ্চল নতুন কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে বৈদ্যুতিক যান, স্মার্ট ডিভাইস ও সামরিক প্রযুক্তির জন্য এসব খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে বৈশ্বিক রেয়ার আর্থ সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় একটি অংশ চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জি-৭ দেশগুলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে।
এই প্রেক্ষাপটে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ মধ্য এশিয়া হয়ে উঠেছে পশ্চিমা দেশগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশের নেতাদের স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সেই সম্মেলনে তিনি খনিজ সম্পদকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। নতুন বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মার্কিন সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরো সুরক্ষিত ও বিস্তৃত করার বিষয়েও জোর দেন তিনি।
পশ্চিমাদের এই সক্রিয়তা মধ্য এশিয়ায় পরাশক্তিগুলোর (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন) মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রতিযোগিতাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : রয়টার্স
মন্তব্য করুন