
ভারতের শাসক দল বিজেপির এক নেতার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সদস্য সায়নী ঘোষ-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে হত্যা করে মাথা এনে দিলে ১ কোটি রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহর জেলার সিকান্দরাবাদের বিজেপি পৌর চেয়ারম্যান প্রদীপ দীক্ষিত-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে তাকে বিতর্কিত ওই ঘোষণা দিতে শোনা গেছে বলে দাবি করা হয়।
জানা গেছে, একটি পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, পোস্টটিতে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ছিল। এরপর থেকেই বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সায়নী ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শীর্ষ বিজেপি নেতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন—নারীর নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তব চিত্র কি এটাই?
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় নারী সুরক্ষার কথা বলা হলেও বাস্তবে একজন নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সায়নী ঘোষ।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে প্রদীপ দীক্ষিত দাবি করেছেন, ভাইরাল ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়েছে। তার দাবি, এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা।
ঘটনাটি ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন