
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে কয়েকদিন আগে চালানো বড় বিমান হামলার পর ফের নতুন করে ব্যাপক হামলার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার মূল লক্ষ্য হবে কিয়েভের “আলোচনা কেন্দ্র”, সামরিক কমান্ড পোস্ট এবং ড্রোন উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলো।
এই তথ্য মঙ্গলবার (২৬ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
রাশিয়ার এই হুমকির পরপরই কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের দ্রুত শহর ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরকারি প্রশাসনিক ভবন ও সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে মস্কো।
রাশিয়ার এই ঘোষণা তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছে ইউক্রেন। দেশটির পক্ষ থেকে একে “নির্লজ্জ ব্ল্যাকমেইল” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
ইউক্রেনের বিবৃতিতে বলা হয়, বিদেশিদের শহর ছাড়ার সতর্কবার্তা দিয়ে রাশিয়া কার্যত স্বীকার করছে যে তাদের হামলার অন্যতম লক্ষ্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলকে ভয় দেখানো।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত শনিবার রাতের এক বড় হামলায় কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কিয়েভে এক সপ্তাহের জন্যও রাশিয়ার হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
মস্কোর দাবি অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ইউক্রেনের স্টারোবিলস্ক শহরের একটি ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় বাহিনী হামলা চালায়, যাতে ২১ জন নিহত হন। এর জবাবে শনিবার বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় রাশিয়া।
তবে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা রাশিয়ার একটি ড্রোন ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
শনিবার রাতের হামলাটি ছিল যুদ্ধের অন্যতম বৃহত্তম বিমান হামলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কিয়েভের আকাশজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণ দেখা যায়।
এই হামলায় রাশিয়া কয়েক ডজন ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং শত শত ড্রোন ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া কিয়েভ থেকে ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বিলা তেরকভা এলাকায় পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন একটি হাইপারসনিক ‘ওরেপনিক’ ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করে রুশ বাহিনী।
এই হামলায় ঐতিহাসিক চেরনোবিল মিউজিয়াম, ন্যাশনাল আর্ট মিউজিয়াম অব ইউক্রেন, শপিং মল, কাঁচাবাজার এবং লুকানিভকা এলাকার বেশ কিছু আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ফোন করে কিয়েভ থেকে আমেরিকান কূটনীতিবিদদের সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান। এই ফোনালাপের পর রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ইউক্রেন বা রাশিয়া—যার পক্ষ থেকেই হোক না কেন, এই হামলাগুলো মনে করিয়ে দেয় এটি একটি অত্যন্ত ‘ভয়াবহ যুদ্ধ’ এবং এটি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ অবসানে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং আশা করি কোনো এক পর্যায়ে সেই সুযোগ তৈরি হবে।’
মন্তব্য করুন