
ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও প্রত্যাবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় জড়ো হওয়া শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করেছে প্রশাসন। পুলিশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ)-এর সমন্বয়ে তাদের বিভিন্ন অস্থায়ী কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রাথমিক সমন্বয় ও আলোচনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)র সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাকিমপুর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় গত দুই দিন ধরে শত শত বাংলাদেশি নাগরিক জড়ো হতে থাকেন। প্রশাসন তাদের বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টারে রাখে।
মঙ্গলবার রাতের দিকে বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন স্থানে তাদের স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে— প্রায় ১১০ জনকে স্বরূপনগরের তেঁতুলিয়া এলাকার সরকারি গেস্ট হাউস “পথের সাথী”-তে রাখা হয়েছে। হাকিমপুর সীমান্ত সংলগ্ন একটি প্রাইমারি স্কুলে শতাধিক নাগরিককে রাখা হয়েছে। সীমান্তের কাছাকাছি দুটি নতুন বাড়িতে আরও প্রায় ১৭০ জনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। গেস্ট হাউস ও অন্যান্য কেন্দ্রের বাইরে কঠোর পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হোল্ডিং সেন্টারে থাকা ব্যক্তিদের নথি সংগ্রহ ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যদি কেউ বৈধ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হন, তবে নিয়ম অনুযায়ী পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়ায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সমন্বয় করবে।
হেফাজতে থাকা কিছু ব্যক্তি জানিয়েছেন, তারা দালালের সহায়তায় বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরে কলকাতা, হাওড়া, রাজারহাট, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এমনকি দক্ষিণ ভারতের কেরল পর্যন্ত বসবাস করেছেন।
তাদের দাবি অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় দালালদের সহায়তায় ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগ এখন প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
এছাড়াও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল কিছু দাবি উঠলেও তা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।
বুধবার বিকেল পর্যন্ত আরও কিছু বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন যানবাহনে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে। তাদেরও নথি যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মন্তব্য করুন