
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। কুয়েত ও বাহরাইন লক্ষ্য করে ইরান সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা ইরানের আক্রমণাত্মক ড্রোন ভূপাতিত করা এবং ইরানের কয়েকটি রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরানের ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি মাঝ আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। বাকি একটি ক্ষেপণাস্ত্রও নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনা বা কর্মীর হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইরান যে দাবি করেছে, সেটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সেন্টকম।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন ‘শত্রু ঘাঁটিতে’ সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্সের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ‘নির্ভুল আঘাত’ হানার দাবি করেছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত এলাকায় অবস্থিত ইরানের সিরিক শহর ও কেশম দ্বীপে মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই এই পাল্টা হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট, সেখানে উত্তেজনা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
মন্তব্য করুন