
মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পেন্টাগনের অধীনস্থ গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) সম্প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ মার্কিন প্রশাসনের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তার কার্যক্রম ও অবস্থান পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে ইরান-সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য কৌশলগত পদক্ষেপ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এই নজরদারি কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।
ডিআইএর প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য গোয়েন্দা কার্যক্রমে শুধু মানব গোয়েন্দা নয়, উন্নত প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা মহলের কিছু সদস্য পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।
তবে এ বিষয়ে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের কার্যালয় থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র এই অভিযোগকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা” এবং “ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল কখনোই মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেনি। বরং দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও নিরাপত্তা সহযোগিতার কথাই তিনি তুলে ধরেন।
একই অবস্থান নিয়েছে হোয়াইট হাউসও। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের সত্যতা নিয়ে তাদের গুরুতর আপত্তি রয়েছে এবং অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে এসেছে।
বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ওয়াশিংটনের অসন্তোষ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে কথিত গোয়েন্দা নজরদারির অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের কিছু সূত্রের মতে ইরান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত তথ্য আদানপ্রদান অব্যাহত রয়েছে। তবে অন্য কয়েকটি সূত্রের দাবি, ভবিষ্যতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা আরোপ করা হতে পারে।
মন্তব্য করুন