
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই আন্দোলনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তাদের দাবি, এই বিক্ষোভের পেছনে আন্তর্জাতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে এবং এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ।
বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ অভিযোগ করেছেন, কিছু বিদেশি শক্তি ভারতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায়। পাশাপাশি দেশের ভেতরের কিছু রাজনৈতিক দলও এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়ে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
বিজেপি নেতাদের দাবি অনুযায়ী, ‘সিজেপি’ নামক একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আগে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করার পর তিনি দেশে ফেরেন বলে দলীয় সূত্রে বলা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ঝাড়খণ্ড সফরে থাকা বিজেপির নতুন সভাপতি নীতিন নবীনও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, দেশের বাইরে বসে কেউ ভারতের তরুণ সমাজকে পরিচালনা করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের যুবসমাজ এই ধরনের নেতিবাচক রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করবে।
গত শনিবার যন্তর মন্তরের ওই বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, চাকরিপ্রার্থীসহ বিভিন্ন বামপন্থি ও সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন। ফলে আন্দোলনটি একাধিক সামাজিক স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে বিস্তৃত আকার নেয় বলে জানা গেছে।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত বড় কোনো রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেবে না। তাদের মতে, নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যর্থ কিছু গোষ্ঠীই ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় শিবির থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ললিত মোদি বিতর্কের উদাহরণ টেনে বলেন, সরকার কোনো ধরনের চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেয় না। তবে দলীয় মহলে জল্পনা রয়েছে যে জুনের শেষ বা জুলাইয়ের শুরুতে সংগঠন ও মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য দপ্তরে সরানো হতে পারে।
বিজেপি বর্তমানে আন্দোলনকারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করছে। দলের দাবি, বিক্ষোভকারীরা মূলত জেন জি’র একটি নির্দিষ্ট অংশের প্রতিনিধিত্ব করছে।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, গ্রামীণ এলাকার কৃষক ও শ্রমজীবী পরিবারের তরুণরা সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে সরকারের পাশে রয়েছে।
আরএসএস-ঘনিষ্ঠ হিন্দি সাপ্তাহিক ‘পাঞ্চজন্য’ এবং তাদের এক্স হ্যান্ডেলে বিক্ষোভের কিছু ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আন্দোলনকারীদের দেশপ্রেম ও জাতীয় অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিক্ষোভে ব্যবহৃত স্লোগানগুলো দেশবিরোধী কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে বলে জানা গেছে।
যন্তর মন্তরের এই বিক্ষোভ এখন শুধু একটি সামাজিক আন্দোলন নয়, বরং তা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
মন্তব্য করুন