
আবান ইবনু উসমান (রহ.) বর্ণনা করেন, তিনি তাঁর পিতা উসমান ইবন আফফান (রা.)-কে বলতে আর তিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন- যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবে—
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ، فِي الْأَرْضِ، وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ বিসমিল্লা-হিল্লাজি লা-ইয়াদুর্রু মা‘আসমিহী শাইয়ুন, ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস্ সামা-ই, ওয়া হুয়াস্ সামী‘উল ‘আলীম।
অর্থ আল্লাহর নামে—যাঁর নামের বরকতে আসমান ও যমিনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পড়বে, সকাল পর্যন্ত তার ওপর কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। আর যে ব্যক্তি সকালে তিনবার পড়বে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সে হঠাৎ বিপদ থেকে নিরাপদ থাকবে। এই হাদিসটি সুনান আবু দাউদ, হাদিস নম্বর: ৫০৮৮-এ বর্ণিত হয়েছে।
ইসলামী স্কলারদের মতে, এই দোয়া নিয়মিত আমল করলে আল্লাহর রহমত ও হেফাজত লাভ করা যায়। এটি মুমিনের জন্য দৈনন্দিন জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ জিকির।
বর্ণনায় উল্লেখ আছে, একবার আবান (রহ.) পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হলে, যে ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে হাদিস শুনেছিল, সে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল। তখন আবান (রহ.) বললেন, তুমি আমার দিকে তাকাচ্ছ কেন? আল্লাহর কসম! আমি উসমান (রা.)-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করিনি এবং উসমান (রা.)-ও নবী (সা.)-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেননি। তবে যেদিন আমি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হই, সেদিন রাগের কারণে আমি এই দোয়া পড়তে ভুলে গিয়েছিলাম।
এই ঘটনা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে— আমলের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত জরুরি, রাগ বা আবেগ যেন ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটায়, দোয়া ও জিকিরে অবহেলা না করা।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে, সকাল-সন্ধ্যার জিকির মুমিনের আত্মিক ও মানসিক সুরক্ষার ঢাল। এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নামে শুরু করার বরকত পাওয়া যায়, অদৃশ্য বিপদ থেকে হেফাজতের প্রার্থনা করা হয়, আল্লাহর সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ গুণের প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় হয়। বর্তমান সময়ের অনিশ্চয়তা ও অপ্রত্যাশিত বিপদের প্রেক্ষাপটে এই দোয়া আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই সংক্ষিপ্ত দোয়া পাঠ করা একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এই জিকির আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সুরক্ষা, প্রশান্তি ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা বৃদ্ধি করে।
নিয়মিত আমলের মাধ্যমে আমরা নিজেদের ও পরিবারের জন্য আল্লাহর হেফাজত কামনা করতে পারি।
মন্তব্য করুন