
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত যায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) জানিয়েছেন—তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে সেহরি খেয়ে ফজরের নামাজের জন্য প্রস্তুত হন। আনাস (রা.) জিজ্ঞাসা করেন, সেহরি ও আজানের মধ্যবর্তী সময় কত ছিল? উত্তরে যায়েদ (রা.) বলেন, পঞ্চাশ অথবা ষাটটি আয়াত তেলাওয়াত করতে যত সময় লাগে। — সহিহ বুখারি
আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মধ্যম মানের ৫০–৬০ আয়াত তেলাওয়াত করতে আনুমানিক ১৫–২০ মিনিট সময় লাগে।
রোজা রাখার জন্য সেহরি খাওয়া ফরজ বা অপরিহার্য নয়। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সেহরি না খায়, তবুও তার রোজা সহিহ হবে এবং এতে গুনাহ হবে না। তবে সেহরি খাওয়া নবীজির (সা.) সুন্নত। নবীজি (সা.) নিজে সেহরি খেতেন এবং তার সাহাবিদেরও সেহরি খেতে উৎসাহ দিতেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, আপনারা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে। (সহিহ মুসলিম)
ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রা.) বলেন, রমজানে একদিন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আমাকে সেহরি খেতে ডাকলেন; বললেন, বরকতময় খাবার খেতে এসো। (মুসনাদে আহমদ)
সেহরি খাওয়াকে মুসলমানদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে নবীজি (সা.) বলেছেন, আমাদের রোজা ও আহলে কিতাব বা পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের অনুসারীদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া। (সহিহ মুসলিম)
সেহরিতে কতটুকু খাবার খেতে হবে? আরেকটি বর্ণনায় নবীজি (সা.) বলেছেন, সেহরি খাওয়া বরকতপূর্ণ কাজ। সুতরাং আপনারা তা পরিত্যাগ করবেন না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি করুন। যারা সেহরি খায় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (মুসনাদে আহমদ)
তাই নবীজির (সা.) অনুসরণ ও বরকত লাভের নিয়তে সেহরি খেয়েই রোজা রাখার চেষ্টা করা উচিত। সুযোগ থাকলে সেহরির বরকত হাতছাড়া করা উচিত নয়। সেহরি পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরি খাওয়ার সুন্নত আদায় হবে যেমন ওপরে উল্লিখিত হাদিসে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এক/ দুটি খেজুর দিয়েও সেহরি করা যেতে পারে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মুমিনের জন্য উত্তম সেহরি হলো হলো খেজুর। (সুনানে আবু দাউদ)
মন্তব্য করুন