
১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া ১৫ বছর বয়সী কিশোরী খালেদা খানমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বাংলাদেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা জিয়াউর রহমান। বিবাহের পর খালেদা খানম নিজের নাম মিলিয়ে খালেদা জিয়া নামে পরিচিত হন। তবে রাজনীতিতে পদার্পণের পর থেকেই তিনি সকলের কাছে খালেদা জিয়া হিসেবে পরিচিতি পান।
খালেদা জিয়ার জন্মকাল নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। দলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তার জন্ম সাল ১৯৪৬, তবে ‘নন্দিত নেত্রী: খালেদা জিয়া’ গ্রন্থে সাবেক প্রেস সচিব সৈয়দ আবদাল আহমেদ উল্লেখ করেন, তিনি ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
খালেদা জিয়ার বাবার বাড়ি দিনাজপুরের বালুবাড়ী এলাকায়। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মা তৈয়বা মজুমদার। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া ছিলেন তৃতীয়। শৈশবের ডাকনাম ছিল ‘পুতুল’, এছাড়া পরিবারে তাকে ‘টিপসি’ এবং ‘শান্তি’ নামেও ডাকতেন। বালুবাড়ী এলাকার তৈয়বা ভিলা বাড়িতেই তার কৈশোর কেটেছে। বর্তমানে সেই বাড়িতে কেউ বসবাস করেন না এবং সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতাল চলছে।
খালেদা জিয়া তার স্বামী জিয়াউর রহমানের বধূ হিসেবেই জীবনের অর্ধেক সময় কাটিয়েছেন। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে খালেদা জিয়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে খালেদা জিয়া পঞ্চম সংসদের প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বে সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনী আনা হয়, যা রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার পদ্ধতি থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করে।
মন্তব্য করুন