
গলায় কোরবানির মাংস আটকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আঁখি নামের ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী। এমন দুর্ঘটনা শুধু শিশুদের ক্ষেত্রেই নয়, যেকোনো বয়সের মানুষের সঙ্গে ঘটতে পারে। তবে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় খাওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ করে কোরবানির ঈদের সময় মাংসজাত খাবার বেশি খাওয়ার কারণে গলায় হাড় আটকে যাওয়া বা খাবার শ্বাসনালীতে চলে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। তাই আগে থেকেই এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
খাওয়ার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়ার সময় গল্প-আড্ডা স্বাভাবিক বিষয়। তবে মুখে খাবার নিয়ে কথা বলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে মাংসের ছোট হাড় বা খাবারের অংশ গলায় আটকে যেতে পারে। কখনো কখনো খাবার শ্বাসনালীতে ঢুকে শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে।
ধীরে-সুস্থে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন খাবার খাওয়ার সময় ধীরে-সুস্থে ও মনোযোগ দিয়ে খাওয়া উচিত। তাড়াহুড়া করে বড় বড় লোকমা খাওয়া কিংবা একসঙ্গে বেশি খাবার মুখে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে হাড়যুক্ত মাংস খাওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের খাবার পরিবেশনের আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিতে হবে খাবারে ছোট হাড় বা কাঁটা আছে কি না। তেহারি, কাচ্চি বা মাংসজাত খাবারের ক্ষেত্রে হাতে পরীক্ষা করে হাড় সরিয়ে দেওয়াই নিরাপদ।
গলায় হাড় আটকে গেলে প্রাথমিকভাবে যা করবেন : হালকা কাশি দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। অনেক সময় এতে ছোট হাড় সরে যায়। তবে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জোরে কাশি দেওয়া ঠিক নয়।
অল্প অল্প করে পানি পান করুন ধীরে ধীরে অল্প পানি পান করা যেতে পারে। এতে আটকে থাকা হাড় নিচে নেমে যেতে পারে। তবে গিলতে বেশি কষ্ট হলে জোর করে পানি খাওয়া উচিত নয়।
নরম খাবার খেতে পারেন অনেকে নরম ভাত, কলা বা পানিতে ভেজানো রুটি অল্প করে খান। এতে হাড় নিচে নেমে যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই জোর করে বড় খাবারের দলা গিলে ফেলার চেষ্টা করা উচিত নয়।
কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে থাকুন অনেক সময় গলায় হাড়ের আঁচড় লাগলেও মনে হতে পারে কিছু আটকে আছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অস্বস্তি কমে যেতে পারে। তবে সমস্যা বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
যেসব কাজ কখনো করবেন না গলায় হাড় আটকে গেলে আঙুল ঢুকিয়ে হাড় বের করার চেষ্টা করবেন না। এতে গলার ভেতরে ক্ষত তৈরি হতে পারে এবং হাড় আরও গভীরে আটকে যেতে পারে। একইভাবে শুকনা ভাত বা বড় খাবারের দলা জোর করে গিলে ফেলার অভ্যাসও বিপজ্জনক। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঘরোয়া ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার না করাই ভালো।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন? নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে: শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, কথা বলতে না পারা, লালা গিলতে সমস্যা হওয়া, বুকে ব্যথা অনুভব করা, অতিরিক্ত কাশি বা দম বন্ধ লাগা, মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া।
চিকিৎসকেরা প্রয়োজন হলে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে আটকে থাকা হাড় বের করতে পারেন। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে খাদ্যনালিতে ক্ষত, সংক্রমণ বা আরও গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার সময় সচেতনতা ও সতর্কতা মেনে চললে গলায় খাবার আটকে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। শিশুদের খাবার ছোট ছোট অংশে পরিবেশন করা এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের ধীরে খেতে উৎসাহিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য সতর্কতাই বড় দুর্ঘটনা থেকে পরিবারকে নিরাপদ রাখতে পারে।
মন্তব্য করুন