
একটি পাকা চুল টেনে তুললে, আশপাশে আরও একগুচ্ছ পাকা চুল গজায়— শুধু দেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে এই ধারণা প্রচলিত।
তবে এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
একটি পাকা চুল উপড়ে ফেললে ওই নির্দিষ্ট স্থান থেকে কেবল একটি পাকা চুলই গজাবে, কোনোভাবেই চুলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে না। তবে এই অভ্যাসের কারণে মাথার ত্বক ও চুলের ফলিকল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিজ্ঞান যা বলে
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ত্বক-বিশেষজ্ঞ মেলিসা পিলিয়াং এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করেন, “একটি পাকা চুল টেনে তুললে চারপাশের অন্য চুলগুলো সাদা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, মাথার প্রতিটি চুল আলাদা আলাদা ফলিকল (চুলের গোড়ার কোষ) থেকে জন্মায়। একটি ফলিকলের সাথে পাশের ফলিকলের কোনো যোগাযোগ থাকে না। তাই একটি চুল তোলার কারণে চারপাশের অন্য চুলের কোনো ক্ষতি বা পরিবর্তন হয় না।”
একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির ট্রেকোলজির (চুল ও মাথার ত্বকের বিজ্ঞান) বিশেষজ্ঞরা জানান, চুলের কালো রংয়ের জন্য দায়ী মূলত ‘মেলানিন’ নামক একটি রঞ্জক পদার্থ। বয়স বৃদ্ধি বা বংশগত কারণে যখন চুলের গোড়ায় মেলানিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, তখন চুল ধূসর বা সাদা বর্ণ ধারণ করে।
একটি চুল টানলে পাশের চুলের মেলানিন উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়ে না।
চুল টেনে তোলার আসল বিপদ
যদিও পাকা চুল তুললে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। তবে কাজটি নিয়মিত করলে ক্ষতি হওয়া শুরু হয়।
ফলিকলের স্থায়ী ক্ষতি ও টাক পড়া: যুক্তরাজ্যের কেশ-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ লিসা কটারলি, সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ম্যাগাজিন হাফপোস্ট ইউকে’তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “বারবার চুল টেনে উপড়ে ফেললে চুলের গোড়ার ফলিকল বা রোমকূপ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ওই স্থানে নতুন করে আর কখনও চুল নাও গজাতে পারে, যা পরে স্থায়ী টাকের সমস্যা বা ‘ট্র্যাকশন অ্যালোপিশিয়া’ সৃষ্টি করে।
মাথার ত্বকে ইনফেকশন বা সংক্রমণ: আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি (এএডি)-এর চিকিৎসকদের মতে, জোর করে চুল টানার ফলে মাথার সংবেদনশীল ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়ে ‘ফলিকুলাইটিস’ হতে পারে। এটা এক ধরনের পুঁজযুক্ত ফুসকুড়ি বা ব্রণের মতো।
ইনগ্রোউন হেয়ার: চুল টেনে তোলার কারণে নতুন চুলটি সোজা না গজিয়ে ত্বকের ভেতরের দিকে বা বাঁকা হয়ে গজাতে পারে। ফলে মাথার ত্বকে দীর্ঘমেয়াদী চুলকানি ও প্রদাহ হয়।
তাহলে মানুষ কেন মনে করে চুল বেশি পাকছে?
ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডার্মাটোলজিস্ট-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, “এটি আসলে একটি ‘টাইমিং’ বা সময়ের ব্যাপার।”
মানুষ যখন প্রথম তার মাথায় দুয়েকটি পাকা চুল দেখতে পায়, তখন থেকেই মূলত তার জিনগত বা বয়সজনিত কারণে চুল পাকার আসল প্রক্রিয়াটি শুরু হয়।
প্রাকৃতিকভাবেই সময়ের সাথে সাথে মাথার অন্যান্য চুলও সাদা হতে থাকে। তবে মানুষ ভুলবশত মনে করে যে, আগে পাকা চুলটি তোলার কারণেই হয়তো এখন বেশি চুল পাকছে।
পরামর্শ
পাবমেড সাময়িকীতে প্রকাশিত, ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির ডার্মাটোলজি বিভাগের করা গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, যদি মাথায় অল্প কিছু পাকা চুল দেখা দেয় এবং সেটি দেখতে খারাপ লাগে, তবে তা টেনে না তুলে খুব সাবধানে কাঁচি দিয়ে গোড়া থেকে কেটে ফেলা যেতে পারে।
এতে চুলের ফলিকল বা মাথার ত্বকের কোনো ক্ষতি হয় না।
মন্তব্য করুন