
সাধারণত শীতের মৌসুমে হাঁসের মাংসের চাহিদা বেশি থাকে। নতুন চালের গুঁড়ার রুটি কিংবা ভাপা পিঠার সঙ্গে হাঁসের মাংস খাওয়ার ঐতিহ্য বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। তবে বর্তমানে শুধু শীতকাল নয়, বছরের প্রায় সব সময়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কিংবা পারিবারিক আয়োজনে হাঁসের মাংস রান্না করা হয়।
অনেকেই সুস্বাদু ঝাল হাঁসের মাংস খেতে দূরের জনপ্রিয় খাবারের বাজারে ছুটে যান। কিন্তু সঠিক উপকরণ ও রান্নার কৌশল জানা থাকলে ঘরেই তৈরি করা সম্ভব রেস্তোরাঁর স্বাদের মশলাদার হাঁসের মাংস। যারা সহজ ও ঘরোয়া রেসিপি পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই ঝাল হাঁসের মাংস হতে পারে আদর্শ একটি পদ।
ঝাল হাঁসের মাংস রান্নার উপকরণ হাঁসের মাংস – ১ কেজি পেঁয়াজ (কিউব করে কাটা) – আধা কাপ আস্ত রসুন – ৫টি পেঁয়াজ বাটা – ১ টেবিল চামচ আদা বাটা – ১½ টেবিল চামচ রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ মরিচ গুঁড়া – ২ চা চামচ হলুদ গুঁড়া – ১ চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া – ১ চা চামচ জিরা গুঁড়া – আধা চা চামচ ভাজা জিরা গুঁড়া – আধা চা চামচ নারকেলের দুধ – ১ কাপ পেঁয়াজ বেরেস্তা – ৩ টেবিল চামচ গরম মসলা গুঁড়া – ১ চা চামচ তেজপাতা – ৩টি দারুচিনি – ৪ টুকরা এলাচ – ৪টি লবণ – স্বাদমতো ভিনেগার বা লেবুর রস – ২ টেবিল চামচ সরিষার তেল – ১ কাপ যেভাবে তৈরি করবেন ঝাল হাঁসের মাংস
প্রথমে হাঁসের মাংস ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে পছন্দমতো টুকরা করে নিন। এরপর ভিনেগার অথবা লেবুর রস দিয়ে মেখে ১০ মিনিট রেখে দিন। পরে আবার ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন।
একটি হাঁড়িতে সরিষার তেল গরম করে তেজপাতা, দারুচিনি ও এলাচ ফোড়ন দিন। এরপর কিউব করে কাটা পেঁয়াজ ও আস্ত রসুন দিয়ে হালকা বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন।
পেঁয়াজ ভাজা হয়ে গেলে পেঁয়াজ বাটা, আদা বাটা, রসুন বাটা এবং সব গুঁড়া মসলা দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। মসলা থেকে তেল বের হতে শুরু করলে হাঁসের মাংস যোগ করে কয়েক মিনিট নেড়ে মসলার সঙ্গে মিশিয়ে নিন।
এরপর ঢেকে দিয়ে অল্প পানি যোগ করুন এবং মাঝারি আঁচে মাংস কষাতে থাকুন। মাংস অর্ধেক সিদ্ধ হয়ে এলে নারকেলের দুধ ও পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে দিন। কম আঁচে ঢেকে রান্না করুন।
ঝোল ঘন হয়ে তেল ওপরে ভেসে উঠলে ভাজা জিরা গুঁড়া ও গরম মসলা গুঁড়া ছিটিয়ে নামিয়ে নিন। পরিবেশনের আগে বাকি পেঁয়াজ বেরেস্তা উপরে ছড়িয়ে দিন।
গরম গরম ঝাল হাঁসের মাংস পরিবেশন করুন নতুন চালের রুটি, পরোটা, নান অথবা সাদা ভাতের সঙ্গে। নারকেলের দুধ ও দেশি মসলার সংমিশ্রণে তৈরি এই রেসিপি পরিবারের সবাইকে দেবে ভিন্ন স্বাদের এক অনন্য খাবারের অভিজ্ঞতা।
মন্তব্য করুন