
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং চলতি জুন মাসের মধ্যেই এসব কাজ সম্পন্ন হবে।
শনিবার (৬ জুন) ঢাকা মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আইন ও বিধি সংশোধনের কাজ শেষ হলেই নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান দিয়ে নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে ভোট আয়োজন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের বিভিন্ন কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার হিসেবেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে স্থানীয় সরকার কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
তবে ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি পৌরসভা নির্বাচনও আয়োজন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হবে। আগামী বছরে আরও ৩৪৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আওতায় আসবে।
এ ছাড়া বর্তমানে ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ১২টি সিটি করপোরেশন, ৬১টি জেলা পরিষদ। নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আরও সম্প্রসারণ ঘটছে। সম্প্রতি সরকার বগুড়াকে নতুন সিটি করপোরেশন হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে দেশে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা ১২ থেকে বেড়ে ১৩টিতে উন্নীত হবে।
একই সঙ্গে নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদনের ফলে দেশের মোট উপজেলার সংখ্যা ৪৯৫ থেকে বেড়ে ৫০০-তে পৌঁছাবে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আইনগত সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন