
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা। নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠক দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশেষ করে বিএনপি সমর্থিত একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন হলো— সুন্দরপুর-দুর্গাপুর, জামাল, কোলা, নিয়ামতপুর, সিমলা-রোকনপুর, ত্রিলোচনপুর, রায়গ্রাম, মালিয়াট, বারোবাজার, কাষ্ঠভাঙ্গা ও রাখালগাছি। সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময়, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করছেন।আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, বিএনপি সমর্থিত একাধিক প্রার্থী প্রতিটি ইউনিয়নে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। কেউ সাবেক ছাত্রনেতা, কেউ তরুণ সমাজসেবক, আবার কেউ দীর্ঘদিন দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে এলাকায় প্রভাব তৈরি করেছেন। ফলে এক ইউনিয়নে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর কারণে বিএনপির অভ্যন্তরেও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইতোমধ্যে দলীয়ভাবে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির পক্ষ থেকে একজন করে দলীয় প্রার্থী দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে এবং তার কোনো দলীয় পদ-পদবি থাকলে, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক প্রবীণ নেতা বলেন, প্রকৃত ত্যাগী ও নির্যাতিত বিএনপি নেতাদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তা সাদরে গ্রহণ করবে। তবে গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুর মিলিয়ে চলা ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হলে সাধারণ ভোটাররা সেটি সহজভাবে মেনে নেবে বলে মনে হয় না।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও ইতোমধ্যে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বলে জানা গেছে। দলটির নেতাকর্মীরাও মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণ দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই এবার নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব দেখতে চান। বিশেষ করে শিক্ষিত, সৎ ও জনবান্ধব প্রার্থীদের প্রতি তরুণ ভোটারদের আগ্রহ বেশি। তবে একই সঙ্গে গত বিএনপি আমলে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন সাবেক চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তাও এখনো রয়েছে। তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার কারণে অনেক ভোটার এখনো তাদের প্রতি আস্থা রাখছেন।
কালীগঞ্জের সচেতন মহল মনে করছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে ততই রাজনৈতিক মাঠ আরও উত্তপ্ত হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও গণসংযোগে শিগগিরই পুরো উপজেলায় নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়বে।
মন্তব্য করুন