
সুন্দরবনের গভীর বন পেরিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সফরই হয়ে দাঁড়ায় শেষ—কোস্ট গার্ডের হাতে ধরা পড়েন কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত আব্দুস সামাদ মোল্লা (৩৫)।
এরপর তাকে সঙ্গে নিয়ে চালানো হয় আরেক দফা অভিযান। অন্ধকার রাত, জোয়ারভাটার নদী আর গহীন বনের ভেতর মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে চলমান বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর অংশ হিসেবে এই সাফল্য এসেছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন মঙ্গলবার সকালে প্রেস ব্রিফিং এ বলেন , “সুন্দরবনে সক্রিয় সব দস্যুদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। ধারাবাহিক অভিযানে তাদের কার্যক্রম ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।”
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল সুন্দরবন থেকে উঠে বাগেরহাটের রামপালের শুকদারা এলাকায় নিজ বাড়িতে আসেন সামাদ মোল্লা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ এপ্রিল রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
এরপর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২১ এপ্রিল গভীর রাতে মোংলার নন্দবালা খাল সংলগ্ন বনে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি একনলা বন্দুক, একটি এয়ারগান ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
আটকের পর এ প্রতিবেদকের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে তিনি দাবি করেন, “দেড় মাস আগে এই দলে যোগ দিয়েছি। এখন আর ভালো লাগছে না।”
এই বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে, দস্যু দলে নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার প্রবণতা এখনও পুরোপুরি থামেনি। একই সঙ্গে দল ছাড়ার মানসিক টানাপোড়েনও রয়েছে কিছু সদস্যের মধ্যে।
তবে কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব বক্তব্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
আটক সামাদ মোল্লা বাগেরহাটের রামপালের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন তিনি ছোট সুমন বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জব্দ অস্ত্র ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সুন্দরবন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী দমন করতে কয়েক বছর ধরে যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে অনেক বাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও বিচ্ছিন্নভাবে এখনও কিছু গ্রুপ সক্রিয় থাকার তথ্য মিলছে।
মন্তব্য করুন