মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দক্ষিণাঞ্চলের চিংড়ি শিল্প সংকটে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি চাষীদের

সৈয়দ অনুজ, ফকিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
দক্ষিণাঞ্চলের চিংড়ি শিল্প সংকটে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি চাষীদের

দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত চিংড়ি শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চিংড়ি চাষীরা। নদী থেকে চিংড়ির পোনা আহরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে শিল্পটি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করে দ্রুত এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সোমবার বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার রেনু মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাগেরহাটের ফকিরহাট, মোল্লাহাট, চিতলমারী, রামপাল, মোংলা, খুলনার তেরখাদা, রূপসা, দিঘলিয়া এবং সাতক্ষীরাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের লাখো মানুষ চিংড়ি চাষের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় দুই দশক আগে ফকিরহাটের ফলতিতা চিংড়ি মার্কেট “বাংলার কুয়েত” হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। একসময় ‘সাদা সোনা’ খ্যাত এই চিংড়ি খাত থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হলেও বর্তমানে শিল্পটি টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশে বিদ্যমান হ্যাচারিগুলো মোট চাহিদার মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ পোনা সরবরাহ করতে সক্ষম। তাও মানসম্মত নয়। ফলে অধিকাংশ চাষীকেই নদীর প্রাকৃতিক পোনার ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু পোনা আহরণের পর থেকেই জেলেদের পথে পথে হয়রানি, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।

বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে চিংড়ি খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এখনও পর্যন্ত চাষীরা প্রয়োজনীয় পোনার ১০ শতাংশও ঘেরে ছাড়তে পারেননি।”

মৎস্য বিভাগের সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষার নামে বাস্তবতা বিবেচনা না করেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাদের দাবি, পোনা সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চিংড়ির পোনা আলাদা করে অন্যান্য মাছের পোনা নদীতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য ও চিংড়ি শিল্প—দুই-ই রক্ষা করা সম্ভব। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দেশের প্রান্তিক ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষের শ্রম ও উদ্যোগে অনাবাদি জমিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই সম্ভাবনাময় শিল্পখাত। অথচ এখন নানা বিধিনিষেধ ও নীতিগত জটিলতায় শিল্পটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

বক্তারা সরকারের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, চিংড়ি সেক্টরের ঘের থেকে শুরু করে রপ্তানিকারক পর্যন্ত ৭ থেকে ৮টি স্তরে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। শতভাগ রপ্তানিমুখী এই শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে না দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান তারা।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংকে টাকা তোলার হিড়িক

গেমসের ট্রায়াল দিতে ঢাকায় জিনাত

ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ২৪ জনের নামে মামলা, আটক ৩

নড়াইলে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ

বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ দেবে জাপান

জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক কারাগারে

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজারের বেশি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও তারুণ্য ধরে রাখবে কাঁকরোল

মণিরামপুরে ইমামুল হত্যাকাণ্ডে আটক হুসাইনের স্বীকারোক্তি

ঋণের প্রলোভনে টাকা আত্মসাত, মাহমুদাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

পাওনা টাকা চাওয়ায় ভাতিজার মারধরে বৃদ্ধ নিহত

সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা সাধারণ মানুষের

মণিরামপুর পৌরসভার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

এস আলমের প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

X