
বৃষ্টি নামলেই টিনের ফাঁক দিয়ে পানি পড়ে ঘরের ভেতর। ঝড়ের রাতে সেই জরাজীর্ণ ঝুপড়ির ভেতর মায়ের পাশে জেগে থাকতে হতো হীরা আক্তারকে। কখনও পুরো রাত কাটত আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায়।
মোংলার সিগনাল টাওয়ার এলাকার ২০ বছর বয়সী হীরা আক্তার অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালান। অসুস্থ মাকে নিয়ে বছরের পর বছর তিনি এভাবেই অনিশ্চিত ও কষ্টকর জীবন পার করছেন। নিজের একটি নিরাপদ ঘরের স্বপ্ন থাকলেও বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সেই বাস্তবতায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে সম্প্রতি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও মোংলা-রামপাল আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম নিজের তহবিল থেকে হীরা আক্তারের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেন।
শুক্রবার দুপুরে তিনি নতুন ঘরটি পরিদর্শন করেন এবং হস্তান্তর করেন। এ সময় হীরা ও তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
নতুন ঘর পেয়ে হীরা আক্তারের মুখে স্বস্তির ছাপ দেখা যায়। দীর্ঘদিনের কষ্টের জীবনে এটি যেন এক নতুন শুরু।
হীরা বলেন, “আগে বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ত, রাতে ঘুম হতো না। এখন মনে হচ্ছে আমাদেরও একটা নিরাপদ ঠিকানা হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও মানবেতর পরিবেশে বসবাস করছিলেন হীরা ও তার মা। নতুন ঘর পাওয়ার পর তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ওদের অবস্থা খুবই কষ্টের ছিল। এখন ঘর পেয়ে অনেকটাই স্বস্তিতে আছে।”
একই এলাকার আলেয়া বেগম বলেন, “এভাবে সাহায্য পাওয়া সত্যিই তাদের জন্য বড় পরিবর্তন।”
স্থানীয় যুবক সোহেল রানা বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ এলাকার অসহায় মানুষের জন্য বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়ায়।”
প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমি নির্বাচনের সময় অঙ্গীকার করেছিলাম, সমাজে যারা সমস্যায় আছে তাদের পাশে থাকব। সেই প্রতিশ্রুতি থেকেই এই ঘর দেওয়া হয়েছে। এখন আর রোদ, বৃষ্টি ও শীতে কষ্ট পেতে হবে না হীরার পরিবারকে। আমাদের উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”
মন্তব্য করুন