
যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার আলোচিত মনিরুল ইসলামকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। আটক মনিরুল ইসলাম ষষ্ঠীতলা এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে। শনিবার রাতে ঝুমঝুমপুর মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই অলক কুমার দে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ ১৭টি মামলা রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি রাতে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত আলমগীর হোসেন যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কের ইন্তাজ চৌধুরীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে জামাতা পরশ, সাগরসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। একই সঙ্গে ওই দুজনকে আটকও করা হয়। পরে এ হত্যার মূল শুটার বেজপাড়ার ত্রিদিবকে আটক করা হয়। তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন। তার জবানবন্দিতে আটক করা হয় যশোর শহরের রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে শাহীন কাজীকে। তিনিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে মনিরুলের নাম। সেই সূত্র ধরেই মনিরুলকে আটক করা হয়। রোববার তিনিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা অলক কুমার দে জানান, এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের মেয়ে জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুক, শাহীন কাজী ও সর্বশেষ মনিরুলকে নিয়ে মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, অপর একটি সূত্র জানায়, আসামিদের দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে আলমগীর হোসেনকে খুন করতে খরচ ধরা হয় ১৫ লাখ টাকা। এই পুরো টাকার খরচ বহন করার কথা ছিল জামাই পরশের। প্রথম দিন দেওয়া হবে ৫ লাখ টাকা। বিকেলে পরশ এক লাখ টাকা এবং একটি পিস্তল তুলে দেন মিশুকের হাতে। বাকি ৪ লাখ টাকা শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার হিসেবে নেবেন পরশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর রাতে পরশ ওই টাকা ভাগাভাগি করে সবাইকে দেবেন। বাকি ১০ লাখ টাকা সুবিধামতো সময়ে দেওয়া হবে বলে জানান পরশ। আর অস্ত্রটি পরশের নিজের। কিলিং মিশনে ১০/১২ জন ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম মোটরসাইকেলে থাকবে অমিত ও শুটার মিশুক। পরের মোটরসাইকেলে থাকবে আরও দুজন এবং তৃতীয় মোটরসাইকেলে থাকবে তিনজন।
সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আলমগীর হোসেন যখন মোটরসাইকেল চালিয়ে শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে ঢোকেন, সে সময় তিনটি মোটরসাইকেল তার পিছু নেয়। ইসহাক সড়কে ঢুকে আলমগীর হোসেন একটি দোকানে কিছু সময়ের জন্য দাঁড়ান। তারাও দাঁড়িয়ে যায়। একটি মোটরসাইকেল আগে চলে যায়। আলমগীর হোসেন যখন সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের কাছাকাছি পৌঁছান, সে সময় চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি করেন মিশুক। এরপর চারজন দুটি মোটরসাইকেলে দ্রুত চলে যায় গোলপাতা মসজিদের দিকে। আর শাহীন কাজীকে বহন করা তৃতীয় মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থল থেকে ঘুরিয়ে ফের বটতলার দিকে চলে যায়।
মন্তব্য করুন