
ব্যস্ত নাগরিক জীবনে সময় বাঁচাতে রেডিমেড পোশাকের চাহিদা থাকলেও উৎসবে ফ্যাশন সচেতনরা চান নিখুঁত পোশাক। তাই উৎসবে প্রয়োজন হয় বাড়তি প্রস্তুতির। এজন্য বানানো পোশাকের আবেদন এখনো কমেনি। ঈদ এলেই অনেকেই চান পছন্দের পোশাকটি বানিয়ে নিতে। সঠিক মাপজোকের বাহারি ডিজাইনের পোশাকের জন্য তাই দর্জিবাড়িই ভরসা। পোশাকের গতানুগতিক ভীড়ে হারিয়ে যেতে চান না ফ্যাশন সচেতনরা। তাই নির্ভর করেন বানানো পোশাকে। ঈদ উপলক্ষে দর্জিবাড়িতে শুরু হয়েছে পোশাক বানানোর ব্যস্ততা। কেউবা কাপড় কাটছেন, কেউ সেলাই করছেন তো আবার কেউবা কাপড়ে দিচ্ছেন ট্রায়াল। এমনিভাবে সকাল থেকে রাত অবধি নিরলস কাজ চলছে যশোরের বিভিন্ন দর্জিবাড়িতে।
আসছে ঈদ, তাই শহরের বিভিন্ন প্রান্তের দর্জির দোকানে কাস্টমারদের ফরমায়েশ অনুযায়ী বানানো হচ্ছে বাহারি নানান পোশাক। শহরের বিভিন্ন প্রান্তের টেইলার্সগুলোতে সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্য কাজ শুরু হয়ে চলছে রাত ১২টা পর্যন্ত। আবার কোন কোন টেইলার্সে কাজের চাপ বেশি থাকায় কারিগরররা কাজ করছেন মাঝ রাত অবধি। সেহেরির বিরতি ও খানিক ঘুম শেষে আবারও শুরু হচ্ছে পোশাক তৈরির ব্যস্ততা। অর্ডার বাড়লে তা চলবে সারারাত পর্যন্তও। বেশিরভাগ টেইলার্সে ১৫ থেকে ২০ রোজা পর্যন্ত অর্ডার নেয়া হচ্ছে। আবার কোন কোন টেইলার্স ২২রোজা পর্যন্তও সময় বাড়িয়েছে। পোশাকের মজুরি আগের বছরের মূল্য তালিকা অনুযায়ীই নেয়া হচ্ছে বলে জানান বিভিন্ন টেইলার্সের দর্জিরা। এবারে থ্রি পিসের অর্ডার বেশি বলে জানান তারা। দেশি বিদেশী নানান কাটিংয়ের সালোয়ার কামিজের প্রচলন এবারে, এতেই আগ্রহ তরুণীদের। দেশি ঘরানার সালোয়ার কামিজের পাশাপাশি চলছে পাকিস্তানী ও ভারতীয় নানান কাটের সালোয়ার কামিজ। কামিজের দৈর্ঘ্য খানিকটা কমেছে এবার। হাঁটু বরাবর ঝুল আর স্ট্রেইট সালোয়ার হালফ্যাশন। বিভিন্ন টেইলার্সে এবার এ ধরনের পোশাকের অর্ডার বেশি দেখা গেছে। এর পাশাপাশি লং কামিজ চলছে এবারেও। রয়েছে নায়রা, জিপসী, আনারকলি, মাসাককালি, পাখি’র চাহিদাও। শিশুদের ফ্রক আর কিশোরীদের চাহিদার শীর্ষে গাউন, সারারা ও গারারা। আর ফ্যাশন সচেতন পুরুষের ফরমায়েশ নানান ডিজাইনের পাঞ্জাবী ও কাবলী সেট।
যশোর পোশাক তৈরি ব্যবসায়ী সমিতি’র ২০২৩ সালের সর্বশেষ মজুরি তালিকা অনুযায়ী সুতির সালোয়ার কামিজ তৈরিতে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে। সিনথেটিক সালোয়ার কামিজে ৪৫০ থেকে ৭০০টাকা। শুধু সালোয়ার ১৮০ থেকে ২০০টাকা। চুড়িদার ২০০ থেকে ২২০টাকা। ধুতি সালোয়ার ৩৫০টাকা। প্যান্ট কাটিং পায়জামা ২৫০ থেকে ৩৫০টাকা। সেমিজ ১৫০থেকে ১৮০ টাকা। প্লেন ব্লাউজ ৩০০থেকে ৩৫০ টাকা। ডিজাইন ব্লাউজ ৩৫০থেকে ৫৫০টাকা। পেটিকোট ১৫০ থেকে ২০০টাকা। বিভিন্ন ডিজাইনের বোরকা ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। সুতির প্লেন ফ্রক ৩২০টাকা। প্লেন গাউন ফ্রক সুতি ৪৫০ টাকা। প্লেন গাউন ফ্রক দুই পার্ট ৭৫০টাকা। মৌচাক ফ্রক ৮০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা। আনারকলি ৭৫০ থেকে এক হাজার ২০০টাকা। জিপসি ও পাখি ড্রেস ৭৫০থেকে এক হাজার ২৫০টাকা। লেহেঙ্গা ৭০০ থেকে এক হাজার ৩৫০টাকা। শাড়ির পাড় ও শাড়ির ফলস্ ২৫০টাকা। পুরুষদের পাঞ্জাবী ৫০০ থেকে ৫৫০টাকা। সাধারণ জুব্বা ৬৫০টাকা। সৌদি জুব্বা ৮০০টাকা। কাবলী সেট এক হাজার ১০০টাকা। শার্ট ৪৫০টাকা। ডিজাইন শার্ট ৪৮০টাকা। ফতুয়া ৪০০টাকা। প্যান্ট ৫৫০টাকা। জিন্স প্যান্ট ৬০০টাকা পর্যন্ত মজুরি রাখা হচ্ছে।
শহরের অঙ্গশোভা টেইলার্সের দর্জি মুরাদ হোসেন বলেন, সকাল ৯টার পর থেকেই কাজ শুরু করতে হচ্ছে, রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ চলছে। সামনের রোজাগুলোতে অর্ডার বাড়লে সারারাতও কাজ করতে হতে পারে। ঝিলিক টেইলার্সের দর্জি আব্দুল কাদের বলেন, এবারে তরুণীদের কাছ থেকে আমরা থ্রি পিসের অর্ডার বেশি পাচ্ছি। একটিভ টেইলার্সের দর্জি শফিয়ার রহমান বলেন, অর্ডার মোটামুটি আসছে, ১২বা ১৫রোজার মধ্যে হয়তো আরও বাড়বে। মডার্ন টেইলার্সের সত্ত্বাধিকারী ও যশোর পোশাক তৈরি ব্যবসায়ী সমিতি’র যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন, দুই বছর আগের মূল্য তালিকা অনুযায়ী আমরা মজুরি রাখছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে খরচ বেড়েছে তবু আমরা পোশাকের মজুরি বাড়াইনি। উপরন্তু আমরা কারিগরদের বেতন আরও বাড়িয়েছি।
মন্তব্য করুন