
যশোর সিটি ক্যাবল (প্রা:) লিমিটেডের তিনটি চেক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ম্যানেজিং ডিরেক্টর মীর মোশারফ হোসেন বাবু ওরফে ডিসবাবুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার চেক উদ্ধারের দাবিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন শহরের জেস টাওয়ারে অবস্থিত সিটি ক্যাবলের চেয়ারম্যান আফজালুল করিম। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা অভিযোগ আমলে নিয়ে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী আলমগীর হোসেন।
বাদীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অফিসের কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে দেখতে পান, এএমসি ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেডের তিনটি চেক—একটি ৯৮ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫০ টাকা, আরেকটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অপরটি ১ কোটি টাকার—বিবাদী আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কোম্পানির কোনো ডিরেক্টরের অনুমোদন বা রেজুলেশন ছাড়াই এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ছাড়া নিজ হেফাজতে রেখে ডিজঅনার করেন।
বাদীর দাবি, ডিস বাবু ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং উক্ত তিনটি চেকসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২ এপ্রিল তিনি মীর মোশারফ হোসেন বাবুকে অফিসে আসতে বলেন। তিনি অফিসে এলে চেক বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মারতে উদ্যত হন। পরে চলে যাওয়ার সময় চেক ও কাগজপত্র ফেরত দেবেন না বলে হুমকি দেন। আইনজীবী আলমগীর হোসেন জানান, প্রথমে তারা বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে চেক ও কাগজপত্র উদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মীর মোশারফ হোসেন বাবু বলেন, চেক তিনটি কোম্পানির হওয়ায় তিনি কোম্পানির পক্ষে সেগুলো উদ্ধার করেন এবং পরে ডিজঅনার করেন। চেকের বিপরীতে ইতোমধ্যে আদালতে মামলা করা হয়েছে, যা বিচারাধীন রয়েছে। টাকা আদায় হলে কোম্পানিই তা পাবে। এখানে ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই বলেও তিনি দাবি করেন। ২ এপ্রিল তিনি যশোরেই ছিলেন না বলে জানান। ব্যবসায়িক প্রতিহিংসাবশত তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন