
ডাউন সিনড্রোমে ভুগতে থাকা ব্যক্তিরা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ। তাদের পরিবারের মানুষজনের সমর্থন ও সহায়তা পেলে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সহজেই সমাজের নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্তদের নিয়ে এখনো প্রয়োজনীয় সচেতনতা নেই। শহরাঞ্চলে ডাউন সিনড্রোম সম্পর্কে কিছুটা সচেতনতা তৈরী হলেও, শহরের বাইরে এখনও এবিষয়ে তেমন কোনো আলোচনা নেই।
এদের উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবন যাপনে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকেরই সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র ডাউন সিনড্রোমের শিশুদের জন্য কোনো স্কুল নেই। অটিজমসহ অন্যান্য স্পেশাল শিশুদের স্কুলেই ডাউন সিনড্রোম শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম চলে।
এ বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে। বিশ্ব ডাউন সিন্ড্রোম দিবস পালন উপলক্ষে উপলক্ষ্যে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাঁচতে শেখার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।
বুধবার দুপুরে বাঁচতে শেখা কার্যালয়ে এ উপলক্ষে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশু তাদের পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ে র্যালি এবং আলোচনাসভা সচেতামূলক ক্যাম্পেইন এবং বিনোদন মূলক কার্যক্রম আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাঁচতে শেখার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক এঞ্জেলা গোমেজ।
আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ম্যাপ ইন সিবিআর প্রকল্পের পিসি হিমেল সঞ্জীব কিসকু। এসময় আলোচনা অংশ নেন ও ম্যাপ ইন সিবিআর প্রকল্পের কর্মী ও ডাউন সিনড্রোম শিশু ও কেয়ার গিভাররা। সেন্টার ফর ডিজএ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট সিডিডির সহযোগীতায় লিলিয়ান ফন্ডসের অর্থায়নে এ আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত ডাউন সিনড্রোম একটি বংশানুগতিক সমস্যা এবং শরীরে ক্রোমোজোমের বিশেষ ত্রুটির জন্য হয়। ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তির প্রতিটি দেহকোষে ২১তম ক্রোমোজোমে একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোমের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যাকে ‘ট্রাইসোমি ২১’ বলা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ৮০০ শিশুর মধ্যে জন্ম নেয় একটি ডাউন সিনড্রোম শিশু। সারাবিশ্বে ডাউন সিনড্রোম মানুষ রয়েছে প্রায় ৭০ লাখ। এমন শিশু-কিশোরদের জন্য কাজ করা ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৬ সাল থেকে ডাউন সিনড্রোম সচেতনতা মাস উদযাপন করে আসছে।
এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য একাকিত্বের বিরুদ্ধে একসাথে। প্রতিবছর একুশে মার্চ বিশ্বব্যাপী ওয়ার্ল্ড ডাউন সিনড্রোম ডে উদযাপন করা হয়।
মন্তব্য করুন