
প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান যশোর ইনস্টিটিউট-এর ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৪ এপ্রিল। প্রায় ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ মুহূর্তে এসে চরমে পৌঁছেছে।
ইতোমধ্যে সরাসরি প্রচারণা শেষ হলেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—বিশেষ করে ফেসবুক, এসএমএস এবং রেকর্ডেড ফোনকলের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইনস্টিটিউট চত্বর জুড়ে প্যানা-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা।
সাধারণ ভোটাররাও দুই প্যানেলের হ্যান্ডবিল দেখে কাকে কাকে ভোট দিবেন তা নির্ধারণ করে নিচ্ছেন। নির্বাচনে দুই প্যানেলের একদিকে রয়েছে এজেডএম সালেক স্বপন নেতৃত্বাধীন ‘সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি’ প্যানেল; অন্যদিকে আনিসুজ্জামান পিন্টুর নেতৃত্বাধীন ‘পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ’। দুই প্যানেল লিডারই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। আগামীকাল ২৪ এপ্রিল এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রাচীনতম জেলা যশোরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু যশোর ইনস্টিটিউটের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন আগামীকাল শুক্রবার। নির্বাচনে ২০টি পদের বিপরীতে দুই প্যানেল থেকে ৪০ জন এবং দুজন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। নির্বাচনে মোট ভোটার তিন হাজার ২৯জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দীর্ঘ ছয় বছর পর যশোর ইনস্টিটিউটের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে দুই প্যানেলের প্রচার প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে যশোর ইনস্টিটিউট অঙ্গন।
কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত দুই প্যানেলের সদস্যরাই ছুটেছেন ভোটারদের কাছে। ইতোমধ্যে প্রচার প্রচারণার সময় শেষ হয়েছে। শেষ সময়ে এখন চলছে ডিজিটালি প্রচারণা। ফেসবুক, এসএমএসের পাশাপাশি প্রার্থীদের রেকর্ডেড ফোনকলও পাচ্ছেন ভোটররা। এতে প্রার্থীরা প্যানেলের পাশাপাশি তার নিজের ব্যালটের কথাও বলছেন।
নির্বাচনে এজেডএম সালেক স্বপনের নেতৃত্বে ‘সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি’ নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়েছেন। যাদের ব্যালেট নম্বর ১ থেকে ২০। এ প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন, সৈয়দ শাহাজান আলী খোকন, মো. শাহনেওয়াজ আনোয়ার লেনিন, অধ্যক্ষ ড. শাহনাজ পারভীন, অধ্যাপক মো. ইবাদত আলী, মো. আলমগীর হোসেন বাবু, চঞ্চল কুমার সরকার, মো. জিল্লুর রহমান মানিক, মো. হাচিনুর রহমান, মো. মাহমুদ হাসান বুলু, মো. আক্তারুজ্জামান, প্রফেসর শেখ জুলফিকার আলী মাসুম, শাহাবুদ্দীন আহমেদ সাবু, এসএম মুস্তাফিজুর রহমান কবীর, মো. সানোয়ার আলম খান দুলু, মো. এমরান সাদিক, অ্যাডভোকেট মো. আবুল কায়েস, মো. রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল এবং অজয় দত্ত।
অপরদিকে আনিসুজ্জামান পিন্টুর নেতৃত্বে ‘পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ’ প্যানেল থেকেও ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যাদের ব্যালট নম্বর ২১ থেকে ৪০। এই প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন, অধ্যাপক মো. আবুল হাসিম রেজা, মো. মনজুর কাদের মঞ্জু, মো. ফেরদৌস হোসেন আলমগীর, মো. নাসির উদ্দীন মিঠু, অ্যাডভোকেট মোছা. মমতাজ খাতুন, মো. নাছিম উদ্দিন খান, মো. বদরুজ্জামান, মো. হাবিবুর রহমান রুবেল, সালমান হোসেন, মো. শাহাবুদ্দীন, মো. জাকির হোসেন, মো. জুবায়ের হোসেন, মো. শেখ সাদী হ্যাভেন, মো. আবুল কালাম আজাদ (মামুন আজাদ), এসএম তোজাম্মেল হক, শারমিন সুলতানা (সাথী) এবং নূর-ই-আলী-নূর-মামুন। এছাড়া স্বতন্দ্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. নুরুননবী (ব্যালট নম্বর ৪১) এবং মাহাবুবুর রহমান (ব্যালট নম্বর ৪২)।
সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতির প্রার্থী শাহনেওয়াজ আনোয়ার লেনিন বলেন, আমরা ভোটারদের কাছে যেয়ে ইনস্টিটিউটের অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে ভোট প্রার্থনা করেছি। ভোটাররাও সমর্থন জানাচ্ছেন। আশা করছি আমার প্যানেল (ব্যালেট নম্বর ১-থেকে ২০) বিজয়ী হবে।’
অন্যদিকে, পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদের প্রার্থী সালমান হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ায় ভোটাররা মধ্যে খুশি। ইনস্টিটিউটের উন্নয়নের স্বার্থে পরিবর্তন প্রয়োজন। সেই পরিবর্তনের জন্যই আমরা প্রার্থী হয়েছি। আশা করছি ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে (ব্যালেট নম্বর ২১-থেকে ৪০) সমর্থন দেবেন।
সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতির প্যানেল লিডার এজেএম সালেক স্বপন বলেন, ইনস্টিটিউটের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ভোটরদের সমর্থন প্রার্থনা করেছি। ভোটারদের কাছে বিনীত আহ্বান, ভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণ করুন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। বিচার বিশ্লেষণ করে যোগ্যপ্রার্থীদের ভোট দিন। ভোটারদের প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে যে, তারা সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতিকে পূর্ণপ্যানেলে বিজয়ী করবেন।
অন্যদিকে, পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদের প্যানেল লিডার আনিসুজ্জামান পিন্টু বলেন, দীর্ঘদিন ইনস্টিটিউটে ভোট হচ্ছিল না। আমরা প্যানেল দিয়ে সদস্যদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছি। এ কারণে সদস্যরা অনেক খুশি। তারা আমাদের স্বাগত জানাচ্ছেন। আশা করছি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোটররা পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদের পক্ষে রায় দেবেন।
মন্তব্য করুন